অবিশ্বাস্য এক ক্রিকেট ম্যাচের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। প্রতি পরতে ছিল যার টান টান উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ। যেখানে বায়ার্নকে হতাশ করে শেষ হাসি পিএসজির। আবারো ফাইনালের পথে ম্যান ইন ব্লুরা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। এবার আরো একবার শিরোপা জয়ের হাতছানি তাদের সামনে। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে ফাইনালের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে তারা।
২০২১ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম ইউরোপ সেরার মঞ্চে বায়ার্নকে হারাতে পারল পিএসজি। দু’দলের টানা পাঁচ ম্যাচে জয়হীন ছিল ফরাসি ক্লাবটি। যে খরা কাটিয়ে ক্লাবটি পেল রোমাঞ্চকর জয়।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজি ও বায়ার্ন যে নাটকীয়তার জন্ম দিলো, তা শুধু একটি ম্যাচ নয়- আধুনিক ফুটবলের এক স্মরণীয় শিল্পরূপ হয়ে থাকবে বহুদিন।
পিএসজির ঘরের মাঠ প্রাক দ্য প্রাসের আলো ঝলমলে রাতে শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল আগুনঝরা গতি। ‘আমাদের চেয়ে ভালো দল আর নেই’- আগের দিন পিএসজি কোচের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেল দলের পারফরম্যান্সে।
লড়াইয়ে ছিল তুমুল তীব্রতা। যদিও ম্যাচের শুরুটা ছিল বায়ার্নের দখলে। আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারাবাহিকতায় ১৭ মিনিটে এগিয়ে যায় জার্মান জায়ান্টরা। পেনাল্টি থেকে গোল করেন হ্যারি কেইন।
পিএসজির উইলিয়ান পাচো বক্সে দিয়াসকে ফাউল করলে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি। চলতি আসরে এটি ছিল তার ১৩তম গোল, যা তাকে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারে আরো শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
তবে ম্যাচের রঙ বদলাতে বেশি সময় নেয়নি পিএসজি। ২৪ মিনিটে অসাধারণ একক নৈপুণ্যে সমতা ফেরান খিচা কাভারাস্কেইয়া। বায়ার্নের ডিফেন্সকে ছিন্নভিন্ন করে তার বাঁকানো শট প্যারিসের দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়।
এরপর ৩১ মিনিটে জোয়াও নেভেসের হেডে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কর্নার থেকে আসা বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। প্রথমার্ধেই আবারো সমতা ফেরায় বায়ার্ন। ৪০ মিনিটে মাইকেল ওলিসে দারুণ দক্ষতায় গোল করে ম্যাচকে ২-২ করেন।
তবে বিরতির আগে শেষ হাসি হাসে পিএসজি। ইনজুরি টাইমে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ওসমান দেম্বেলে, ফলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় লুইস এনরিকের দল।
দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি যেন আরো ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। ৫৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কাভারাস্কেলিয়া, আর তার ঠিক দুই মিনিট পরই ডেম্বেলের গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-২।
এই সময় মনে হচ্ছিল, হয়তো বায়ার্ন হার মেনে নিয়েছে। কিন্তু আসল রোমাঞ্চের তখনো বাকি। ৬৫ মিনিটে ডায়েট উপমেকানোর হেডে গোল করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় তারা। সেই গোলের রেশ না কাটতেই ৬৮ মিনিটে লুইস দিয়াজ ব্যবধান কমিয়ে ৫-৪ করেন।
ফলে ম্যাচের উত্তেজনা বেড়ে যায়। লড়াই আরো তীব্র হয়ে উঠে। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি।
এমতাবস্থায় রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে দু’দলকেই অভিবাদন জানান দর্শকেরা। কারণ এই ম্যাচে জয়-পরাজয়ের সীমা ছাড়িয়ে জয়ী হয়েছে ফুটবল নিজেই।
চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের ইতিহাসে এক ম্যাচে ৯ গোল আগে দেখা যায়নি কখনো। তবে ইউরোপিয়ান কাপে ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে রেঞ্জার্স ও আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের এক ম্যাচে দেখা গিয়েছিল ৬-৩ গোল।
৫-৪ ব্যবধানের জয় লুইস এনরিকের পিএসজিকে ফাইনালের পথে সামান্য এগিয়ে রাখলেও সবকিছুর নিষ্পত্তি হবে দ্বিতীয় লেগে, যা অনুষ্ঠিত হবে মিউনিখে।



