গ্রুপ পর্বে অপরাজেয়, আর্জেন্টিনার গলার কাঁটা সেই ইতিহাস

গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়ে নকআউটে উঠেছে আর্জেন্টিনা, তবে ইতিহাস বলছে- বিশ্বকাপে এর আগে যতবার তারা শতভাগ সাফল্যে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে, ততবারই শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে। এবার সেই ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্যেই নামবে আলবিসেলেস্তারা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আর্জেন্টিনা ফুটবল দল
আর্জেন্টিনা ফুটবল দল |সংগৃহীত

বিশ্বকাপে দাপট ধরে রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তিন ম্যাচ, তিন জয়- শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট পর্বে পা রেখেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। মাঠের পারফরম্যান্স বলছে, শিরোপা ধরে রাখার অন্যতম দাবিদার তারাই।

কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের পাতায় লুকিয়ে আছে এমন এক পরিসংখ্যান, যা হয়তো কিছুটা হলেও ভাবিয়ে তুলতে পারে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের। গ্রুপ পর্বের এই দাপুটে রূপ হয়ে উঠতে পারে তাদের গলার কাঁটা।

এর আগে বিশ্বকাপে যতবার গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে নকআউটে উঠেছে আর্জেন্টিনা, ততবারই শেষ পর্যন্ত অধরা থেকেছে শিরোপা। অর্থাৎ নিখুঁত গ্রুপ পর্ব কখনোই তাদের জন্য বিশ্বকাপ জয়ের নিশ্চয়তা হয়ে ওঠেনি।

১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসর থেকেই যার শুরু। গত ৯৬ বছরেও ভাঙেনি সেই প্রথা। এবার কী ভাঙবে সেই খরা? নাকি আরো একবার হবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। উত্তর পেতে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

যে ইতিহাসের শুরু প্রথম বিশ্বকাপ আসরে। সেবার দুর্দান্ত সূচনা করেছিল আর্জেন্টিনা। ফ্রান্স, মেক্সিকো ও চিলিকে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছিল শতভাগ সাফল্যে। সেই ধারাবাহিকতায় পৌঁছে গিয়েছিল ফাইনালেও।

কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলে হেরে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা।

এরপর দীর্ঘ সময় এমন সাফল্য আর আসেনি।

৬৮ বছর পর আবারো গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই জয় পায় আর্জেন্টিনা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জাপান, জ্যামাইকা ও ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দেয় তারা। এমনকি আত্মবিশ্বাসী দলটি শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দেয়।

কিন্তু ভাগ্য এরপর আর সহায় হয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় আলবিসেলেস্তারা।

এরপর ২০১০ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার অধীনে একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হয়। নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও গ্রিসকে হারিয়ে শতভাগ সাফল্যে গ্রুপ পর্ব শেষ করে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে মেক্সিকোকেও উড়িয়ে দেয় তারা।

কিন্তু সেখানে জার্মানির বিপক্ষে ছিল একতরফা লড়াই। ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয় ম্যারাডোনার দলকে।

এমনকি ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালেও গ্রুপ পর্বের শতভাগ জয় তাদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারেনি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ইরান ও নাইজেরিয়াকে গ্রুপ পর্বে হারিয়ে নকআউটে ওঠে মেসিরা।

এরপর সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু শিরোপার মঞ্চে আবারো বাধা হয়ে দাঁড়ায় জার্মানি। অতিরিক্ত সময়ে মারিও গোটজের গোলে হৃদয়ভাঙে আলবিসেলেস্তাদের।

এবারো একই চিত্র। গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে স্কালোনির শিষ্যরা। সামনে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াই।

ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো, ইতিহাস যেমন ফিরে আসে, তেমনি ভেঙেও যায়। আর পরিসংখ্যান চিরকাল একই পথে হাঁটে না। ফলে অতীতের সেই হতাশার অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাসও লিখতে পারে আলবিসেলেস্তারা।

২০২২ সালে যেমন প্রথম ম্যাচে হেরেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা, তেমনি এবার শতভাগ সাফল্যের পর তারা ইতিহাসের অভিশাপ ভাঙতে নিশ্চয়ই সাহসী হয়ে উঠবে।