ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে ১২ বছর পর প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে রাখল আইভরিকোস্ট। গ্রুপ ‘ই’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে শক্তিশালী ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ তারকা আমাদ দিয়ালো নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে গোল করে দলকে নাটকীয় জয় এনে দেন।
প্রথমার্ধে ইকুয়েডর বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। ২২ এবং ২৮ মিনিটে তাদের দুটি আক্রমণ গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে দুর্ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না দু’বারই শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দক্ষিণ আমেরিকার দলটি তিনবার পোস্ট ও বারে আঘাত করে গোলবঞ্চিত হয়।
১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিওমান্দে আইভরি কোস্টের ডান প্রান্তে বেশ চমৎকার খেলছিলেন, কিন্তু তার তৈরি করা আক্রমণগুলো থেকে দল সুবিধা নিতে পারছিল না। নিকোলাস পেপে একটি সুযোগে শট নিতে বেশ দেরি করে ফেলেন এবং তার অন্য একটি শট সতীর্থ এলি ওয়াহির গায়ে লেগে প্রতিহত হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গঞ্জালো প্লাতার সাথে চমৎকার ওয়ান-টু পাসের পর ভ্যালেন্সিয়ার শটটি পোস্টের বাইরের দিকে লাগে। তবে বিরতির পর আইভরি কোস্টই বেশি ভালো সুযোগ তৈরি করতে শুরু করে।
ম্যাচজুড়ে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ও লড়াকু মানসিকতার পুরস্কার পেয়েছে আইভরিকোস্ট। আমাদ দিয়ালোর একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে ভেঙে যায় ইকুয়েডরের টানা ১৯ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড।
বিশ্বকাপে দীর্ঘ ১২ বছর পর ফিরে আসা আইভরিকোস্ট শুরু থেকেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। শারীরিক শক্তি, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং রক্ষণে শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্সে তারা পুরো ম্যাচজুড়ে ইকুয়েডরকে চাপে রাখে। আফ্রিকান দলটির ফুটবলাররা প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করেছেন এবং প্রতিপক্ষকে সহজে সুযোগ তৈরি করতে দেননি।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ইকুয়েডরও বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েছিল। তবে তাদের ফরোয়ার্ডরা শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হওয়ায় গোলশূন্য থাকতে হয়। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ নষ্ট করায় মূল্য দিতে হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন আমাদ দিয়ালো। তার গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আইভরিকোস্ট শিবির। শেষ বাঁশি বাজার পর খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উদযাপনে বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত হয় ম্যাচটি।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘ই’-তে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে আইভরিকোস্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে জার্মানি। এর আগে একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে জার্মানরা কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দেয়।
প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় আইভরিকোস্টের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গেছে। অপরদিকে ইকুয়েডরকে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে হবে। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে উভয় দলের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে শেষ ষোলোতে কারা জায়গা করে নেবে।



