বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আলোচনা হচ্ছে লিওনেল মেসি, লামিন ইয়ামালকে নিয়ে। আলোচনা চলছে দু’দলের কৌশল, শক্তি আর দূর্বলতা নিয়েও। তবে এর মাঝেই একটি নীরব পরিসংখ্যান কথা বলছে স্পেনের হয়ে- বিশ্রামের সময়।
আজ রোববার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ফাইনালের আগে স্পেন পেয়েছে তিন দিন বিশ্রাম, আর আর্জেন্টিনা দুই দিন। পার্থক্য মাত্র এক দিনের। তবে এর প্রভাব পড়তে পারে ম্যাচে।
সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টগুলোর ইতিহাস বলছে, এই এক দিনই অনেক সময় শিরোপা ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। গত ১৫ বছরে বিশ্বকাপ, ইউরো ও কোপা আমেরিকার (পুরুষ ও নারী) ২০টি ফাইনাল বিশ্লেষণ করলে এমনটাই দেখা যায়।
পরিসংখ্যান বলছে ২০ ফাইনালের ১৭ বারই প্রতিপক্ষের তুলনায় বেশি বিশ্রাম পাওয়া দল ট্রফি জিতেছে। ব্যতিক্রম মাত্র তিনটি। যার দুটি কোপা আমেরিকায়। ২০১৬ সালে এক দিন কম বিশ্রাম পেয়েও চিলি টাইব্রেকারে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।
আবার ২০২১ সালে এক দিন কম বিশ্রাম নিয়েই ব্রাজিলকে হারিয়ে ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়েছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তৃতীয় ব্যতিক্রমটি আসে ২০১৭ সালের নারী ইউরোতে, যেখানে অবশ্য দুই সেমিফাইনালের ব্যবধান ছিল মাত্র দুই ঘণ্টা।
তুলনামূলক কম বিশ্রাম পেয়েও সেবার নেদারল্যান্ডস শিরোপা জিতেছিল। এই তিনটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে বাকি সব ক্ষেত্রেই বিশ্রামে এগিয়ে থাকা দলই হয়েছে চ্যাম্পিয়ন।
বিশেষ করে বিশ্বকাপ ও ইউরো- ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দুই প্রতিযোগিতায় এই প্রবণতা আরো স্পষ্ট। গত ১৪টি বিশ্বকাপ ও ইউরো (পুরুষ ও নারী) ফাইনালের একটিতেও কম বিশ্রাম পাওয়া দল শিরোপা জিততে পারেনি।
২০১২ ইউরোতে ইতালির চেয়ে এক দিন বেশি বিশ্রাম পাওয়া স্পেন জিতেছিল ৪-০ ব্যবধানে। ২০১৩ নারী ইউরোতে জার্মানিও একই সুবিধা কাজে লাগিয়ে হারিয়েছিল নরওয়েকে।
২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার চেয়ে এক দিন আগে সেমিফাইনাল খেলেছিল জার্মানি। অতিরিক্ত সময়ে মারিও গোটজের গোলে চতুর্থ বিশ্বকাপ জেতে জার্মানরা। ২০১৫ নারী বিশ্বকাপেও বাড়তি বিশ্রাম পাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ৫-২ গোলে হারায় জাপানকে।
২০১৬ ইউরোতে পর্তুগালও ফ্রান্সের তুলনায় এক দিন বেশি বিশ্রাম পেয়েছিল। সেই সুবিধা নিয়েই স্বাগতিকদের হারিয়ে প্রথম ইউরো শিরোপা জেতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল।
২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্স সেমিফাইনাল খেলেছিল ক্রোয়েশিয়ার এক দিন আগে। ফাইনালে ৪-২ ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় লে ব্লু।
এছাড়া ২০১৯ নারী বিশ্বকাপ, ২০২১ ইউরো, ২০২২ নারী ইউরো, ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২৩ নারী বিশ্বকাপ, ২০২৪ ইউরো ও ২০২৫ নারী ইউরো- সব ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষের তুলনায় বেশি বিশ্রাম পাওয়া দলই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে।
অবশ্য পরিসংখ্যান কখনোই ম্যাচের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না। তবু ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে নিউইয়র্কের ফাইনালের আগে সামান্য হলেও এগিয়ে স্পেন। যেমন একটু বেশি বিশ্রাম পেয়েছে তারা, তেমনি পাচ্ছে বাড়তি আত্মবিশ্বাসও।



