২০২৬ বিশ্বকাপ নানা কারণেই আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। যার একটি কার্ড প্রসঙ্গ। দক্ষিণ আফ্রিকা–মেক্সিকো উদ্বোধনী ম্যাচেই দেখা গেছে তিনটি লাল কার্ড, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।
অবাক করার মতো তথ্য হলো, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পুরো আসরে যেখানে মাত্র চারটি লাল কার্ড হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম রাতেই সেই সংখ্যার প্রায় সমান লাল কার্ড বেরিয়ে এসেছে।
২০০৬ সালের কুখ্যাত পর্তুগাল– নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর এক ম্যাচে এত লাল কার্ড আর দেখা যায়নি। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক দল কোনটি?
পরিসংখ্যান বলছে- লাল কার্ডের সিংহাসন দখলে রেখেছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলটাই সবচেয়ে বেশি লাল কার্ডের মালিক। ১১৫ ম্যাচে সেলেসাওরা মাঠ ছেড়েছে ১১ বার লাল কার্ড দেখে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
তাদের পরেই রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ক্যামেরুন, দুই দলের ঝুলিতে ৯টি করে লাল কার্ড। তবে ক্যামেরুনের পরিসংখ্যান বিস্ময়কর। আর্জেন্টিনার তুলনায় ৬২ ম্যাচ কম খেলেও তারা সমান সংখ্যক লাল কার্ড দেখেছে।
আবার ব্রাজিলের চেয়ে ৮৯ ম্যাচ কম খেলেও মাত্র দুটি লাল কার্ডে পিছিয়ে রয়েছে আফ্রিকার দলটি। ২৭টি ম্যাচ খেলেই ৯টি লাল কার্ড দেখেছে তারা। যেখানে আর্জেন্টিনা খেলেছে ৮৯টি ম্যাচ।
৮টি করে লাল কার্ড নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও উরুগুয়ে। এরপর ৭টি করে লাল কার্ড নিয়ে আছে জার্মানি ও মেক্সিকো। শীর্ষ ১০ পূর্ণ করেছে ফ্রান্স ও পর্তুগাল, যাদের প্রত্যেকের লাল কার্ড সংখ্যা ৬।
তবে কার্ডের রঙ যদি হলুদ হয়, তবে সবার ওপরে আর্জেন্টিনা। তালিকায় একচ্ছত্র আধিপত্য তাদের। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১২২টি হলুদ কার্ড দেখেছে আলবিসেলেস্তেরা।
তাদের ঠিক পেছনে রয়েছে জার্মানি (১১৮), ব্রাজিল (১১১), নেদারল্যান্ডস (১০৩) ও ইতালি (৯০)। এরপর রয়েছে মেক্সিকো (৮৫), ফ্রান্স (৭৭), দক্ষিণ কোরিয়া (৭৬), উরুগুয়ে (৭৪) এবং স্পেন (৬৬)।
তবে গড়ের হিসাবে সবচেয়ে নজরকাড়া ক্রোয়েশিয়া। মাত্র ৩০ ম্যাচ খেলেই তারা পেয়েছে ৫৮টি হলুদ কার্ড, অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি প্রায় ১.৯৩টি হলুদ কার্ড—যা তালিকার অনেক বড় দলের চেয়েও বেশি।
যাই হোক, সুন্দর ফুটবলের পাশাপাশি কঠোর ট্যাকল, উত্তেজনা আর কার্ডের গল্পও এই আসরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এবার সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে টুর্নামেন্টের শুরুতেই।



