মধ্যপ্রাচ্যে নারীশ্রমিকদের কান্নার শেষ কোথায়

রেমিট্যান্সের চাকা সচল রাখার অর্থ এই নয় যে, আমাদের মা-বোনদের রক্ত ও সম্ভ্রমের ওপর দিয়ে সেই চাকা ঘুরবে। এটি কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্য গৌরবের হতে পারে না। দেশের অর্থনীতির ভিত শক্ত করা এই নারীযোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। মধ্যপ্রাচ্যে নারীকর্মীদের এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে এখনই প্রয়োজন কার্যকর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ। আমরা আর কোনো কফিন মোড়ানো নারীর লাশ বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করতে চাই না; আমরা চাই প্রবাসে তাদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার পূর্ণ নিশ্চয়তা।

পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর তীব্র আকুতি বুকে নিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশী নারী পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য মতে, বর্তমানে ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশী নারীশ্রমিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন। এই পরিসংখ্যানের উজ্জ্বল পিঠের আড়ালে যে অন্ধকার এবং নির্মম বাস্তবতার চিত্র রয়েছে তা শিউরে উঠার মতো।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ প্রবাসে নারীশ্রমিকদের ওপর চলা নির্যাতনের এক রক্ত হিম করা তথ্য হাজির করেছেন। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন লাখের বেশি নারীশ্রমিক বিদেশে গেছেন এবং তাদের একটি বিশাল অংশ চরম নিরাপত্তাহীনতা, বেতনবঞ্চনা ও চুক্তিলঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ দাবিটি হলো- এদের মধ্যে বেশির ভাগ নারীশ্রমিক কোনো না কোনো পর্যায়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। পরিসংখ্যানের চুলচেরা বিশ্লেষণে সংখ্যার তারতম্য থাকতে পারে; কিন্তু মা-বোনদের ওপর যে অমানুষিক নিপীড়ন চলছে- তা আজ আর কোনো গোপন বিষয় নয়। এটি রূপ নিয়েছে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর চলমান চরম ‘মানবাধিকার বিপর্যয়ে’।

বিগত আট বছরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ৮০০ জন নারীশ্রমিকের লাশ দেশে ফিরেছে। প্রশ্ন উঠেছে- রেমিট্যান্সের চাকা সচল রাখা এই নারীযোদ্ধাদের এমন করুণ পরিণতি কেন? এটি কি কেবলই স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো নির্মম সত্য?

গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারীকর্মী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শূন্য হাতে, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করে দেশে ফেরত এসেছেন। যে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে, চড়া সুদে ঋণ করে বা ভিটেমাটি বন্ধক রেখে তারা মরুভূমির দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তার সমাপ্তি ঘটছে এমন এক ট্র্যাজেডিতে, যার দায় রাষ্ট্র কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো- বিদেশ থেকে আসা এই মরদেহগুলোর মৃত্যুসনদে প্রায়শই মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’, ‘স্ট্রোক’ বা ‘আত্মহত্যা’ লিখে দেয়া হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আর্তনাদ ও অভিযোগ বলছে ভিন্ন কথা। সেখানে কর্মীর পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নেয়া, দৈনিক ১৮-২০ ঘণ্টা একটানা খাটুনি, ঠিকমতো খাবার না দেয়া, বেতন আটকে রাখা এবং গৃহকর্তাদের নির্মম শারীরিক ও যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেক নারীই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন অথবা আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। স্থানীয় দালাল ও কিছু অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি নিরাপদ পরিবেশের প্রলোভন দেখিয়ে এদের পাঠায়।

এই সঙ্কটের মূল গোড়াটি লুকিয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত ‘কাফালা’ বা স্পন্সরশিপ পদ্ধতির মধ্যে। এই আইনের কারণে একজন কর্মী সম্পূর্ণভাবে তার নিয়োগকর্তার (কফিল) দয়ার ওপর নির্ভরশীল। সেখানে কর্মীর কোনো আইনি সুরক্ষা থাকে না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে নারীশ্রমিকদের আরবি ভাষা না জানা এবং আধুনিক গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি পরিচালনায় দক্ষতার অভাব। ভাষা না জানার যোগাযোগের ঘাটতিকে নিয়োগকর্তারা তাদের ‘অবাধ্যতা’ মনে করে এবং সেখান থেকেই শুরু হয় মারধর ও নির্যাতনের নির্মম সিলসিলা।

Women-17-6

দ্বিতীয় দফা মানবপাচার
বিদেশের মাটিতে ভাগ্য বদলাতে যাওয়া নারী গৃহকর্মীদের জীবনসংগ্রামের গল্পগুলো প্রায়শই একই বিন্দুতে গিয়ে মেলে- তা হলো নির্মম প্রতারণা। তবে এই সঙ্কটের সবচেয়ে অন্ধকার, জঘন্য এবং ট্র্যাজিক অধ্যায়টি কফিলের ঘরে ঘটে না; সেটি ঘটে চেনা মানুষের চেনা আশ্রয়ে। কফিলের অমানবিক নির্যাতন, অতিরিক্ত কাজের চাপ কিংবা অনাহারের হাত থেকে বাঁচতে একজন নারী যখন বন্দিদশা থেকে পালিয়ে আসেন, তখন ভাষা না জানা, পকেট শূন্য থাকা এবং বৈধ কাগজপত্র না থাকার কারণে বিদেশের মাটিতে তিনি চরম অসহায় বোধ করেন। ঠিক এই অসহায়ত্বের মোক্ষম সুযোগটিই নেয় ওঁৎ পেতে থাকা মানুষরূপী এক শ্রেণীর নেকড়ে। যখন ‘নিজের দেশের মানুষ’ বা পরিচিত কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায়, তখন সেই আশ্রয়ই হয়ে ওঠে তার জীবনের দ্বিতীয় এবং আরো ভয়াবহ একটি নরক। এই সঙ্কটাপন্ন সময়ে কেউ যদি বাংলায় কথা বলে তাকে সান্ত্বনা দেয়, ভালো কাজের বা দেশে পাঠানোর আশ্বাস দেয়, তবে সরল বিশ্বাসে তিনি তাকে ‘ত্রাতা’ বা ‘আপন ভাই’ মনে করেন। নিরাপদ আশ্রয়ের নামে এই অপরাধী চক্র (যাদের মধ্যে অনেক প্রবাসী বাঙালি দালাল জড়িত) নারীদের কোনো গোপন মেস, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফ্ল্যাট বা মরুভূমির ভেতরের কোনো খামারে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে।

এই দালালদের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় এবং অন্যান্য দেশের (যেমন- ভারত, পাকিস্তান বা আফ্রিকার কিছু দেশের) বহুজাতিক অপরাধী সিন্ডিকেটের যোগাযোগ। এসব নারীকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই চক্রের কাছে ‘বিক্রি’ করে দেয়া হয়। তাদের মাদক খাইয়ে, মারধর করে ও নানা হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ম অনুযায়ী, কফিলের বাড়ি থেকে পালালে কফিল ওই কর্মীর নামে পলাতক মামলা ঠুকে দেয়। এর ফলে ওই কর্মী তাৎক্ষণিকভাবে আইনগতভাবে অবৈধ হয়ে যান। অপরাধী চক্রগুলো খুব ভালো করেই জানে, এই নারীরা পুলিশের কাছে যেতে ভয় পাবেন। কারণ, পুলিশে ধরা পড়লে তাদের ডিটেনশন সেন্টারে বা জেলে যেতে হবে। অনেক নারীকর্মী জানেনই না যে, রিয়াদ, দোহা, দুবাই, মানামি, জেদ্দা বা মাসকটে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ‘সেফ হোম’ বা আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে এবং সেখানে পৌঁছাতে পারলে তারা সরকারি সুরক্ষায় দেশে ফিরতে পারবেন।

নির্মম ঘটনা পরম্পরা
২০১৮ এবং ২০২০ সালে ফিলিপাইন সরকার কুয়েত এবং সৌদি আরবে তাদের নারী গৃহকর্মী পাঠানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছিল। কুয়েতে ফিলিপাইনের এক নারী গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার লাশ একটি ফ্রিজের ভেতর এক বছর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ওই ঘটনা ফিলিপাইনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তেকে এতটাই ক্ষুব্ধ করে যে, তিনি কুয়েত থেকে ফিলিপিনোদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ বিমান পাঠান এবং নতুন কর্মী পাঠানো নিষিদ্ধ করেন। পরবর্তীতে কুয়েত সরকার ফিলিপাইনের সাথে কঠোর শ্রমচুক্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই কেবল এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।

২০২১ সালের শেষের দিকে জাতিসঙ্ঘ একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, ভিয়েতনামি দরিদ্র নারী ও অল্পবয়সী মেয়েদের সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানোর নামে মানবপাচার করা হচ্ছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের ওপর ভয়াবহ শারীরিক ও যৌন নির্যাতন, খাবার না দেয়া এবং বেতন আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটে। এমনকি ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে সৌদি আরবে পাঠানোর পর সে নির্যাতনে মারা যায়। এই ঘটনার পর ভিয়েতনাম সরকার তার নাগরিকদের সুরক্ষায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয় এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে।

২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়া সরকার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিসর এবং কুয়েতসহ ২১টি মধ্যপ্রাচ্যের দেশে নতুন নারী গৃহকর্মী পাঠানো স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে। সৌদি আরবে দু’জন ইন্দোনেশিয়ান নারী গৃহকর্মীকে নিয়োগকর্তাদের দ্বারা চরম নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর আত্মরক্ষার্থে খুনের দায়ে জাকার্তাকে না জানিয়েই সৌদি সরকার শিরñেদ করে। এতে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়ার তৎকালীন শ্রমমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়েছিলেন, ‘যেসব দেশে মানুষের মর্যাদা এবং মানবিক মূল্যবোধের অবমাননা করা হয়, সেখানে সরকার কর্মী পাঠানো বন্ধ রাখার অধিকার রাখে।’ পরবর্তীতে ব্যাপক আইনি সুরক্ষা ও নতুন চুক্তির শর্তে ২০২৩-২৫ সালের দিকে তারা আংশিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার উদ্যোগ নেয়।

নেপাল সরকার এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এবং বিশেষ করে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের যাওয়ার ওপর বিভিন্ন মেয়াদে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর বয়সসীমা (যেমন- ৩০ বছরের নিচে কোনো নারী গৃহকর্মী হিসেবে যেতে পারবে না) আরোপ করে রেখেছে। ২০১১ সালে কম্বোডিয়া সরকার সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০১৯ সালে রিয়াদের সেফ হোম থেকে ১১০ জন বাংলাদেশী নারীকর্মীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে নারীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, তারা নিয়োগকর্তাদের অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে এসেছেন। তাদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশগুলোর সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট, তারা শুধু অর্থনৈতিক রেমিট্যান্সের দিকে তাকায়নি; বরং তাদের নারী নাগরিকদের ‘মানবিক মর্যাদা’ এবং ‘জীবনের নিরাপত্তা’কে ব্যবসার চেয়ে অনেক বড় করে দেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যখন বুঝতে পেরেছে, এই দেশগুলো কর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিলে তাদের ঘরোয়া অর্থনীতি অচল হয়ে পড়বে, তখন তারা বাধ্য হয়ে ফিলিপাইন বা ইন্দোনেশিয়ার সাথে কঠোর শর্তে এবং উন্নত বেতনে নতুন চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে।

সমাধানের পথ কী?
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক শ্রমচুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যেখানে নারীকর্মীদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রাখার এবং দৈনিক কর্মঘণ্টা সুনির্দিষ্ট করার আইনি গ্যারান্টি থাকবে। দ্বিতীয়ত, শুধু নামমাত্র ওরিয়েন্টেশন নয়, বিদেশে পাঠানোর আগে অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের বাধ্যতামূলক ও মানসম্মত ভাষা শিক্ষা এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রতিটি নারীকর্মীর কাছে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য একটি স্মার্টফোন বা বিশেষ ডিজিটাল ট্র্যাকিং ডিভাইস থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। যেসব এজেন্সির পাঠানো কর্মী নির্যাতিত বা নিহত হচ্ছেন, তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ মানবপাচার আইনে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। চতুর্থত, একই সাথে, প্রবাসে কোনো কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ময়নাতদন্ত ও আইনি লড়াই নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, যারা নিজ দেশের মা-বোনদের এভাবে অন্য দেশের অপরাধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে পাসপোর্ট বাতিল এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

রেমিট্যান্সের চাকা সচল রাখার অর্থ এই নয় যে, আমাদের মা-বোনদের রক্ত ও সম্ভ্রমের ওপর দিয়ে সেই চাকা ঘুরবে। এটি কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্য গৌরবের হতে পারে না। দেশের অর্থনীতির ভিত শক্ত করা এই নারীযোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। মধ্যপ্রাচ্যে নারীকর্মীদের এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে এখনই প্রয়োজন কার্যকর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ। আমরা আর কোনো কফিন মোড়ানো নারীর লাশ বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করতে চাই না; আমরা চাই প্রবাসে তাদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার পূর্ণ নিশ্চয়তা।

লেখক : অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম-বিষয়ক উপদেষ্টা