অবশেষে ফুরাল অপেক্ষা। দীর্ঘ ২২ বছরের হাহাকার ঘোচলো গানারদের। ২০০৩ সালের পর আবারো প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। প্রায় ভুলতে বসা শিরোপার স্বাদ ঘরে বসেই পেল তারা।
শিরোপা জয়ের মিশনে আর্সেনালকে টেক্কা দিচ্ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। ঘাড়ে গরম নিঃশ্বাস ফেলছিল পেপ গার্দিওয়ালা বাহিনী। তবে সমীকরণ ছিল কঠিন, সিটিকে জিততে হতো শেষ দুই ম্যাচেই।
অন্যদিকে অপেক্ষা করতে হতো শেষ ম্যাচে আর্সেনালের ভুলের জন্য। তবে তার কিছুই হয়নি, হোচট খেয়েছে ম্যানসিটিই। গতরাতে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে গেল দলটা।
এই ড্রয়ের পর ৩৭ ম্যাচ শেষে সিটির পয়েন্ট ৭৮। সমান ম্যাচ খেলে আর্সেনাল এগিয়ে ৪ পয়েন্টে। লিগে দুই দলেরই মাত্র একটি করে ম্যাচ বাকি। ফলে গাণিতিকভাবেই আর গানারদের ছোঁয়া সম্ভব নয় সিটির।
ফলে শেষ দিনে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে আর্সেনাল মাঠে নামবে, ‘চ্যাম্পিয়ন’ তকমা নিয়েই। এটি গানারদের ইতিহাসের ১৪তম লিগ শিরোপা, যা ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
তাদের চেয়ে বেশি লিগ জিতেছে লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সর্বশেষ ২০০৩-০৪ মৌসুমে আর্সেন ওয়েঙ্গারের অধীনে অপরাজিত থেকে শিরোপা জিতেছিল ‘ইনভিনসিবলস’ খ্যাত দলটি।
২০১৯ সালে দায়িত্ব নেয়া মিকেল আর্তেতা টানা তিন মৌসুম রানার্সআপ হওয়ার হতাশা কাটিয়ে অবশেষে দলকে শিরোপা এনে দিলেন। যে কাজটা সহজ করে দিল বোর্নমাউথ।
এদিকে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পাশাপাশি এবার পিএসজির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও খেলবে আর্সেনাল। ইউরোপ সেরার মুকুট জিততে পারলে এটি হতে পারে ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা মৌসুম।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে জুনিয়র ক্রাউপির গোলে পিছিয়ে পড়ে পেপ গার্দিওলার দল। যোগ করা সময়ে আরলিং হালান্ড ফেরালেও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় গোল আর পায়নি সিটি।
অন্যদিকে এই ড্রয়ে ১২৭ বছরের ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলা নিশ্চিত হয়েছে বোর্নমাউথের। আগামী মৌসুমে অন্ততপক্ষে ইউরোপা লিগে খেলবে তারা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সম্ভাবনাও তাদের টিকে আছে এখনো।
টানা ১৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত দলটি ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে ষষ্ঠ স্থানে।



