বাছাইপর্বে কোনো গোল হজম না করেই রেকর্ড গড়ে তিউনিসিয়া। আফ্রিকা অঞ্চল থেকে অপরাজিত থেকেই বিশ্বমঞ্চে এসেছে তারা। তবে তিউনিসদের সেই রক্ষণভাগ ভেঙে গেল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই।
বিশ্বকাপ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সুইডেনের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে তিউনিসিয়া। বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে মন্তেরেই স্টেডিয়ামে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে তাদেরকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি।
ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সুইডেন। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে তিউনিসিয়ার জালে বল জড়ান ২২ বছর বয়সী ইয়াসিন আয়ারি।
শুরুতেই গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে গ্রাহাম পটারের শিষ্যরা। প্রথম গোলের পর আক্রমণের গতি আরো বাড়িয়ে দেয় সুইডেন। সুবাদে ম্যাচের ৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলেক্সান্দার ইসাক।
প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। জোড়া গোল হজমের পর হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তিউনিসিয়া।
সেই চেষ্টার ফলও পায় তারা। ৪৩ মিনিটে হানিবাল মেজব্রির অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে ব্যবধান কমান ডিফেন্ডার ওমর রেকিক। তার গোলে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ফিরে আসে।
প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় শেষে রেফারি আরো ৪ মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেন। তবে এই সময়ের মধ্যে আর কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। ফলে ২-১ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় সুইডেন।
তবে বিরতি থেকে ফিরে তিউনিসিয়াকে আর পাত্তাই দেয়নি সুইডেন। এই অর্ধে প্রথম গোল আসে ৫৯ মিনিটে। যেখানে অবশ্য বড় দায় তিউনিসিস গোলরক্ষকের। তার ভুল পাস বুঝে ওঠার আগেই বল দখলে নেন ইসাক।
সেই বল তিনি এগিয়ে দেন পাশে থাকা ইয়োকেরেসের দিকে। কোনাকুনি শটে বল জালে জড়াতে কোনো কষ্টই হয়নি আর্সেনাল ফরোয়ার্ডের। স্কোর দাঁড়ায় ৩-১।
পরের গোল আসে ৮৪ মিনিটে। বদলি নেমে ১৮ সেকেন্ডেই গোল পান মাটিয়াস সভানবার্গ। তার গোলটি প্রথম অফসাইডের কারণে বাতিল করা হলেও পরে ভিএআর তা গোল হিসেবে ঘোষণা করে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। এর আগে ২০০২ সালে উরুগুয়ের রিচার্ড মোরালেস ১৬ সেকেন্ডে গোল করে এই রেকর্ড গড়েছিলেন।
যোগ করা সময়ে আরো ১ গোল যোগ করে সুইডেন। বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আয়ারি। তার সেই অসাধারণ ফিনিশিংয়ে ৫-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় সুইডেনের।
এই দাপুটে জয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থানেও উঠে এসেছে সুইডিশরা।



