বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের লক্ষ্য কানাডার

বায়ার্ন মিউনিখের আলফোনসো ডেভিস ও জুভেন্টাসের জোনাথন ডেভিডের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া তার দল অনেক বড় লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কানাডা দল
কানাডা দল |সংগৃহীত

গত এক দশকে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ধারাবাহিক উন্নতির পর সহ-আয়োজক কানাডা এবার গ্রুপ ‘বি’-তে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয়ের মাধ্যমে সেই উত্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে চায়।

বিশ্বকাপে আগের দুই আসর- ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে কানাডার রেকর্ড ছিল ভয়াবহ, ছয় ম্যাচের সবকটিতেই হার।

এবার স্বাগতিক দলটি সেই ধারা বদলাতে চায়। কানাডার সাথে গ্রুপে রয়েছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, কাতার ও সুইজারল্যান্ড।

কানাডার মার্কিন কোচ জেসি মার্শ বলেছেন, বায়ার্ন মিউনিখের আলফোনসো ডেভিস ও জুভেন্টাসের জোনাথন ডেভিডের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া তার দল অনেক বড় লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে।

গত বছর মার্শ বলেছিলেন, “আমরা বিশ্বকাপ জিততে চাই।”

তিনি আরো বলেন, “এটা হয়তো হাস্যকর শোনাতে পারে, কিন্তু আমরা কেন কোনো টুর্নামেন্টে গিয়ে ভাবব, ‘দেখি কী হয়, হয়তো একটা ম্যাচ জিততে পারি।”

যদিও শিরোপা জয় এখননো অত্যন্ত কঠিন সম্ভাবনা, তবে মার্শের অধীনে কানাডার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, বিশ্বকাপে প্রথম জয় পাওয়া তাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।

২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় সেমিফাইনালে পৌঁছে অনেককেই চমকে দিয়েছিল কানাডা। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তারা কেবল পেনাল্টিতে উরুগুয়ের কাছে অল্পের জন্য পরাজিত হয়েছিল।

গ্রুপ পর্বে কানাডার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে সুইজারল্যান্ড, যারা টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে।

সুইসরা নিয়মিতভাবেই গ্রুপ পর্ব পার করে। ২০২২, ২০১৮ ও ২০১৪ সালে তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিল, তবে এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০২৪ ইউরোতেও তারা ভালো খেলেছিল। শেষ ষোলোতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে বিদায় করার পর পেনাল্টি শুটআউটে ইংল্যান্ডের কাছে হারে।

সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগে বড় ভরসা ব্রিল এম্বোলো। তাকে সহায়তা করতে পারেন নটিংহ্যাম ফরেস্টের ড্যান এনডয়ে ও সেভিয়ার উইঙ্গার রুবেন ভার্গাস।সান্ডারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা  মিডফিল্ড সামলাতে ফিরছেন, যা সম্ভবত তার চতুর্থ ও শেষ বিশ্বকাপ।

অন্যদিকে বসনিয়ার হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে সম্ভবত শেষবার দেখা যাবে ৪০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার এডিন জেকোকে। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ১২ বছর পর তিনি আবার ফিরছেন।

২০১৪ সালের সেই আসরটিই ছিল বসনিয়ার একমাত্র বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে ওঠার পথে জেকো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কার্ডিফে ওয়েলসের বিপক্ষে নাটকীয় প্লে-অফ জয়ে তিনি সমতাসূচক গোল করেন, এরপর দলটি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকেও হতবাক করে দেয়। অন্যদিকে তরুণদের মধ্যে গোলের আশা থাকবে পিএসভি এইনডোভেনের ২১ বছর বয়সী এসমির বাজরাকতারেভিচ ও ১৮ বছর বয়সী কেরিম আলাইবেগোভিচের ওপর।

কানাডার মতোই এশিয়ার তুলনামূলক দুর্বল দল কাতারও খুঁজছে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়। ২০২২ সালে নিজেদের মাটিতে তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই হেরেছিল তারা।

কাতারের দায়িত্বে থাকবেন সাবেক স্পেন, রিয়াল মাদ্রিদ ও ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড কোচ জুলেন লোপেতেগুই। ২০১৮ বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে স্পেনের চাকরি হারানোর আট বছর পর অবশেষে তিনি বিশ্বকাপ মঞ্চে আসছেন। তবে কাতারের দুর্বল বিশ্বকাপ ইতিহাস বদলানো লোপেতেগুইয়ের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। ৪২ বছর বয়সী সেবাস্তিয়ান সোরিয়াকে দলে রাখা দেশটির সীমিত খেলোয়াড় ভান্ডারেরই ইঙ্গিত দেয়।

সূত্র : বাসস