- মানবপাচার থেকে অব্যাহতি
- প্রতারণার ফৌজদারি অভিযোগ বহাল
- বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইলেন বাদি
দেশের জনশক্তি রফতানি খাতকে নাড়িয়ে দেয়া বহুল আলোচিত ‘মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিন্ডিকেট’ মামলার তদন্তে এক নাটকীয় মোড় এসেছে। সাবেক প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী, সাবেক শীর্ষ আমলা এবং শতাধিক রিক্রুটিং ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় মানবপাচারের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে ২০১২ সালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মূল ধারাগুলো থেকে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে তাদের রেহাই মিলছে না পুরোপুরি; সাধারণ কর্মীদের সাথে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে দণ্ডবিধির একাধিক ফৌজদারি ধারা মামলায় বহাল রাখা হয়েছে।
গত ২২ মে, ২০২৬ তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের এসআই (নি:)/মো: রায়হানুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারামতে এই সম্পূরক চূড়ান্ত রিপোর্ট (বিপি ফরম নং-৪২, বাংলাদেশ ফরম নং-৫৩৬৯) আদালতে দাখিল করেন। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই তদন্তের সমাপ্তি প্রতিবেদনটি দেশের অভিবাসন খাত এবং আইনি মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযুক্তদের তালিকা
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ডিএমপির পল্টন থানায় আলতাব খান বাদি হয়ে ১নং আসামি সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ এবং ২নং আসামি সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীনসহ ১০৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন (পল্টন থানা এফআইআর নং-৬, জিআর নং-৩৬০)। মামলার এজাহারে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৩৮৫/৩৮৬/৪২৭/৩৪ ধারার পাশাপাশি ২০১২ সালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬/৭/৮/৯/১০ ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। অভিযোগের মূল ভিত্তি ছিল- মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে একটি শক্তিশালী ‘মহাসিন্ডিকেট’ তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া, বিদেশে জিম্মি করা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় আদায় করা এবং পরবর্তীতে ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মানবপাচার করে কর্মীদের চরম শোষণ ও নির্যাতনের মুখে ফেলা।
অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব ছাড়াও রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য লে. জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (৫এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড), মো: রুহুল আমীন ওরফে স্বপন (ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল), সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ (আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল) এবং ফেনীর সাবেক এমপি মো: নিজাম উদ্দিন হাজারী (সিংঙা ওভারসিজ লিমিটেড)। এ ছাড়াও দেশের শীর্ষস্থানীয় রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মধ্যে মোহাম্মদ নূর আলী (ইউনিক ইস্টার্ন), নাফিসা কামাল ও কাশমিরি কামাল (অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল), শাহাদাত হোসেন তসলিম (শাহীন ট্র্যাভেলস), গোলাম মোস্তফা (প্রান্তিক ট্র্যাভেলস) এবং শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমানসহ (সাদিয়া ইন্টারন্যাশনালের) শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তদন্তে যা পাওয়া গেল : মানবপাচারের অভিযোগ ‘প্রমাণহীন’
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, মামলার বাদি মানবপাচারের যে ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছিলেন, তার সমর্থনে নির্দিষ্ট কোনো ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বা প্রামাণ্য নথি উপস্থাপন করতে পারেননি। তদন্তের সময় বাদির কাছে বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া কিংবা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়, লিখিত অভিযোগ বা দূতাবাসে জমা দেয়া অভিযোগপত্র চাওয়া হলেও সেগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হয়। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, নথিপত্র এবং অন্যান্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হলেও মানবপাচারের অভিযোগকে সমর্থন করে এমন তথ্য মেলেনি। বিদেশে পাঠানো কর্মীদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ, আটক বা জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার বিষয়ে মামলার অভিযোগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্তকারী কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত হলো, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ধারাগুলো প্রয়োগ করার মতো উপাদান মামলায় অবশিষ্ট নেই। এই কারণে মানবপাচার সংক্রান্ত অভিযোগকে ‘তথ্যগতভাবে অসত্য বা প্রমাণহীন’ (ফাইনাল রিপোর্ট তথ্যগত ভুল) উল্লেখ করে আদালতে এই সম্পূরক প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।
তবে কেন বহাল থাকছে ফৌজদারি অভিযোগ?
মানবপাচারের গুরুতর অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হলেও মামলাটি পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে না। তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে আর্থিক অনিয়ম, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
সেই কারণে দণ্ডবিধির নিম্নোক্ত ধারাগুলোর অভিযোগ বহাল রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিচারিক কার্যক্রম চালানোর সুপারিশ করা হয়েছে:
- ধারা ৪০৬ : বিশ্বাসভঙ্গ বা অর্থ আত্মসাৎ।
- ধারা ৪২০ : প্রতারণা ও সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধ্য করা।
- ধারা ৩৮৫ ও ৩৮৬ : ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক অর্থ বা মূল্যবান সম্পত্তি আদায়।
- ধারা ৪২৭ ও ৩৪ : ক্ষতিসাধন এবং অপরাধ সংঘটনে সাধারণ অভিপ্রায়।
এটি মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। কারণ, মানবপাচারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের উপাদান প্রমাণিত না হলেও বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে আর্থিক প্রতারণা বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের প্রশ্ন পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অন্য ধারায় বিচারপ্রক্রিয়া সচল থাকবে।
তদন্তকালে পুলিশ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সন্দেহে আসামিপক্ষ থেকে দু’টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছিল:
একটি স্যামসাং কোম্পানির মোবাইল ও আরেকটি আইফোন। আদালতে দাখিল করা রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই জব্দকৃত আলামতগুলো বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে রয়েছে, যা পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে। তবে এগুলোর প্রাথমিক পর্যালোচনায় মানবপাচারের সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল প্রমাণ না মিললেও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একাধিকবার তদন্ত, তারপরও একই সিদ্ধান্ত
নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মামলাটি একবার নয়, একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছিল। পরে বাদির আপত্তি ও আদালতের নির্দেশে পুনঃতদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারও পরিবর্তন ঘটে। তবু পুনঃতদন্তেও মানবপাচারের অভিযোগের পক্ষে নতুন কোনো শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ থেকে বোঝা যায়, তদন্ত সংস্থাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করলেও মানবপাচারের অভিযোগকে আইনি মানদণ্ডে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভিসা জটিলতা, চাকরি না পাওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে নানা বিতর্কের মুখে রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চাকরির নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা করা এবং মানবপাচার একই ধরনের অপরাধ নয়। মানবপাচার প্রমাণ করতে হলে জোরপূর্বক শ্রম, অবৈধ নিয়ন্ত্রণ বা সংগঠিত পাচার নেটওয়ার্কের সুস্পষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন, যা এখানে মেলেনি।
সাবেক মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আমলাদের নাম জড়িত থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল। তদন্তে মানবপাচারের অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তি হলেও সমালোচকদের মতে, বিদেশগামী শ্রমিকদের দুর্ভোগের বাস্তবতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন এখনো রয়েই গেছে।
সামনে কী হবে
চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর এখন মূল সিদ্ধান্ত আদালতের। আদালত চাইলে প্রতিবেদনের সুপারিশ গ্রহণ করে মানবপাচারের ধারা বাদ দিয়ে প্রতারণার ধারায় বিচার শুরু করতে পারেন, আবার প্রয়োজন মনে করলে আরো পুনঃতদন্তের নির্দেশও দিতে পারেন। মামলাটির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং বাদিপক্ষের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ওপর। রিক্রুটিং খাতের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আগামী দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গতকাল শনিবার বিকেলে এই মামলার বাদি আফিয়া ওভারসিজের (আরএল-১০১০) স্বত্বাধিকারী আলতাফ খানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়। তিনি মালয়েশিয়া থেকে নয়া দিগন্তকে বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে যে ১০০ রিক্রুটিং এজেন্সি সিন্ডিকেট করেছিল সেই বিষয়ে মহামান্য আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছিল এজেন্সি মালিক আমার মামলার জামিনে থাকা আসামি রফিক সাহেব। এরপরও ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়হানুল রহমান সাহেব কিভাবে মানবপাচার মামলা থেকে সব আসামিকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করে চার্জশিট দিলেন তা আমি বুঝতে পারছি না।
এক প্রশ্নের জবাবে আলতাফ খান বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তকালীন সময়ে আমার অফিসেও একদিনের জন্যও আসেননি, আমার সাথে কোনো কথাও বলেননি। তিনি ওপরের নির্দেশে আসামিদের সাথে আঁতাত করে মানবপাচারের ধারায় ফাইনাল রিপোর্ট দিতে পারেন বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে। আমি আদালতে এবারো নারাজি দেবো। ইতোমধ্যে আমি আমার আইনজীবীর সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আসামি আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দেয়ার পরও যেহেতু পুলিশ সবাইকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেছেন, সেহেতু পুলিশের তদন্তের ওপর আমার আর আস্থা দেখছি না। আমি দেশের স্বার্থে, শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট প্রথা বিলুপ্তির স্বার্থে, দেশ থেকে টন টন টাকা পাচার বন্ধের স্বার্থে এবং রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি এই মামলার সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে আমি বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। কারণ এই ১০০ রিক্রুটিং এজেন্সি যে মানবপাচার ও মানিলন্ডারিংয়ে জড়িত সেটি সংসদে দাঁড়িয়ে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও কয়েক দিন আগে বলেছিলেন। যাই হোক, শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমার লড়াই অব্যাহত থাকবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপরাধ হয়েছে আমার দেশে। মালয়েশিয়া সরকার এ ব্যাপারে কথা বলতে পারে না। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
এর আগে এ মামলার আসামি ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার মো: নুর আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিঙ্গাপুর থেকে নয়া দিগন্তকে বলেন, মামলা হলো একটি। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন এসেছে দুই ধরনের। যাই হোক আমি আমার আইনজীবীর সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
প্রভাতী ইন্টারন্যাশনালের মালিক (আরএল-৯০২) মো: আশরাফ উদ্দিন গতকাল বিকেলে নয়া দিগন্তকে বলেন, মামলার বাদি আফিয়ার কোনো চাহিদাপত্র, ডকুমেন্টস আমার লাইসেন্সে আসেনি। আমি তাকে চিনিও না। এখন কি উদ্দেশ্যে আমার নাম মামলায় দিলেন সেটা উনিই ভালো বলতে পারবেন। প্রতারণার অভিযোগে যাদের নামে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে সেখানে আমার নাম আছে বলে জানান তিনি। আল রাবেতা ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো: আবুল বাশার গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, ডিবি মানবপাচার আইনে তদন্ত করে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো সত্যতা পায়নি। তাই মানবপাচারের ধারা থেকে সবাইকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, আসলে আমরা তো সবাই দুই দেশের সরকারের নিয়ম মেনে বৈধভাবেই কর্মী পাঠিয়েছি। সবাই ভালো আছে। এখানে মানবপাচার হলো কিভাবে? তবে একই মামলায় প্রতারণার অভিযোগের ধারায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যাওয়া বন্ধ রয়েছে। শ্রমবাজারের জটিলতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ প্রথম সরকারি সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। সবাই আশা করছেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দেশটিতে আবারো শ্রমিক যাওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।



