মেক্সিকোর মন্তেরেইতে বারুদ ঠাসা লড়াই অপেক্ষা করছে। শেষ ৩২— এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে মুখোমুখি হবে মরক্কো ও নেদারল্যান্ডস।
বিশ্বকাপের অন্যতম এই দুই শক্তিশালী দলের যেকোনো একটির পথচলা থামছে এখানেই। সকাল ৭টায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি।
কাতার বিশ্বকাপে এই দুই দলই ফুটবল বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিল। প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে খেলার রূপকথা লিখেছিল মরক্কো, আর ডাচরা তো বরাবরই ফেভারিট।
এবার নকআউটের শুরুতেই দুই পরাশক্তির এমন মুখোমুখি অবস্থানকে ফুটবলপ্রেমীরা দেখছেন ‘সময়ের আগের ফাইনাল’ হিসেবে। ফলে বলা যায় মঙ্গলবার সকালে রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে।
এই ম্যাচ শুধু ইউরোপ-আফ্রিকার দ্বৈরথই নয়, পার্থক্য আছে দর্শনেও। একদিকে বল দখল, নিখুঁত পাসিং, আর হিসেব কষে চলা ডাচরা; অন্যদিকে কঠোর রক্ষণ আর চোখের পলকে আক্রমণে উঠা বিধ্বংসী মরক্কো।
এছাড়া অনেক মরক্কান তারকার জন্ম ও বেড়ে ওঠা নেদারল্যান্ডসেই। ফলে এটি শুধু একটি নকআউট ম্যাচ নয়, বরং পরিচয়, আবেগ ও গর্বেরও এক অনন্য লড়াই।
কাগজে-কলমে, অভিজ্ঞতা আর নামেভারে যদিও নেদারল্যান্ডস কিছুটা এগিয়ে। তবে মরক্কো এমন একটি দল, যারা প্রতিপক্ষের আধিপত্য মেনে নিয়েও ম্যাচ জিততে জানে। তবে মরক্কোর বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ।
এই বিশ্বকাপে একটি ক্লিন শিটও রয়েছে মরক্কোর, যেখানে নেদারল্যান্ডস এখনো কোনো ম্যাচে ক্লিন শিট রাখতে পারেনি।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। এখন পর্যন্ত তাদের দেখা হয়েছে চারবার। যেখানে ডাচদের জয় ২ ম্যাচে, মরক্কো জিতেছে ১ বার। অন্য ম্যাচটা ড্র হয়।
সবশেষ দেখায় আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২০২১ সালে ২-২ গোলে ড্র করেছিল দুই দল। একবার (১৯৯৪) অবশ্য নেদারল্যান্ডস ও মরক্কো বিশ্বকাপেও মুখোমুখি হয়। সেই ম্যাচ ২-১ গোলে জিতে ডাচরা।
সব মিলিয়ে এটি এমন একটি ম্যাচ, যেখানে পরিসংখ্যান নেদারল্যান্ডসের দিকে সামান্য ঝুঁকে থাকলেও সাম্প্রতিক ইতিহাস বলে, মরক্কোকে কখনোই হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।



