বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই শিরোপার লড়াই, ইতিহাস গড়ার লড়াই। তবে এই লড়াইয়ে আরেকটি বড় বিষয়ও জড়িয়ে আছে—বিপুল অঙ্কের প্রাইজমানি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যে দল ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে, তারা শুধু বিশ্বসেরার মুকুটই পাবে না, সাথে পাবে কোটি কোটি ডলারের আর্থিক পুরস্কারও।
ফিফার নির্ধারিত প্রাইজমানি অনুযায়ী, বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে রানার্সআপ দলের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩৬৮ কোটি টাকা।
তাই আর্জেন্টিনা ও স্পেনের সামনে শুধু বিশ্বকাপ ট্রফিই নয়, রয়েছে শত কোটি টাকার আর্থিক পুরস্কার জয়ের সুযোগও। তবে অর্থের চেয়েও বড় পুরস্কার নিঃসন্দেহে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অমর গৌরব।
স্বাভাবিকভাবেই যা শিরোপা জয়ের আনন্দ আরো বাড়িয়ে দেবে। দেখা যাক আজ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কার হাতে উঠে চ্যাম্পিয়নস প্রাইজমানি। তার জন্য অবশ্য আর অল্পকিছু সময় অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শুধু ফাইনালিস্টরাই নন, টুর্নামেন্টে যত দূর এগিয়েছে দলগুলো, ততই বেড়েছে তাদের প্রাপ্ত অর্থ। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৩১ কোটি টাকা। আর চতুর্থ হওয়া দল পাবে ২৫ মিলিয়ন ডলার বা ৩০৬ কোটি টাকা।
কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নেয়া প্রতিটি দল পেয়েছে ১৭ মিলিয়ন ডলার বা ২০৮ কোটি টাকা আর শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়া দলগুলোর প্রাপ্য ১৩ মিলিয়ন ডলার বা ১৫৯ কোটি টাকা।
বিশ্বকাপে অংশ নেয়া কোনো দলই খালি হাতে ফেরে না। গ্রুপ পর্ব থেকেই অংশগ্রহণকারী দলগুলো নির্ধারিত অর্থ পায়। এ ছাড়া খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে ছাড়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাবকেও আলাদা অর্থ দেয় ফিফা।
‘ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের সাথে যতদিন থাকেন, সেই সময়ের ভিত্তিতে ক্লাবগুলো অর্থ পেয়ে থাকে। তবে ফিফার দেওয়া এই অর্থ সরাসরি খেলোয়াড়দের হাতে যায় না। প্রথমে তা সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে পৌঁছে।
পরে ফেডারেশনের নীতিমালা অনুযায়ী খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে বোনাস বণ্টন করা হয়। অনেক দেশ আবার শিরোপা জিতলে সরকার বা স্পন্সরদের পক্ষ থেকেও আলাদা বোনাস ঘোষণা করে।



