ঘানাকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া

কলম্বিয়া ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি-জিগি দুর্দান্ত ছয়টি সেভ করলেও জন আরিয়াসের একমাত্র গোলে জয় তুলে নিয়ে ৮ জুলাই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচ নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া
ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া |সংগৃহীত

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রত্যাবর্তনটা আরো স্মরণীয় করে রাখল কলম্বিয়া। কানসাস স্টেডিয়ামে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখল তারা। সেই সাথে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারা কলম্বিয়া এক আসর বিরতির পর বিশ্বমঞ্চে ফিরেই আবারো পৌঁছে গেল শেষ ষোলোয়। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর টানা দ্বিতীয় অংশগ্রহণেও নকআউট পর্বে খেলার কৃতিত্ব দেখাল তারা।

মরক্কো ও মিসরের পর তৃতীয় আফ্রিকান প্রতিনিধি হিসেবে ঘানার শেষ ষোলোয় ওঠার সম্ভাবনা দেখেছিলেন অনেকেই। কিন্তু নেস্টর লরেঞ্জোর পরিকল্পিত ফুটবলের সামনে সেই স্বপ্ন টেকেনি।

কলম্বিয়া শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। মাঝমাঠের দখল ও দ্রুত পাসিংয়ে আফ্রিকান দলটিকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে কলম্বিয়া। ম্যাচে ৬১ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদের।

তবু বড় জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি-জিগি। একের পর এক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন তিনি। ছয়টি দুর্দান্ত সেভ করে ম্যাচে ঘানাকে বাঁচিয়ে রাখেন অনেকক্ষণ।

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার পর নকআউট পর্বে আরেক আফ্রিকান গোলরক্ষকের অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখা গেল তার হাতেই। যদিও শেষ পর্যন্ত দলের হার এড়াতে পারেননি তিনি।

ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় কলম্বিয়া। অষ্টম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন জন কর্দোবা। তার পরিবর্তে লুইস সুয়ারেজ মাঠে নামেন। আর ১৪ মিনিটে তার বাড়ানো নিখুঁত ক্রস থেকে কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেন জন আরিয়াস।

প্রথমার্ধে ব্যবধান আরো বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল লাতিন আমেরিকার দলটি। ৩৮তম মিনিটে বায়ার্ন মিউনিখের উইঙ্গার লুইস দিয়াজ ফাঁকা গোলপোস্ট পেয়েও শট বাইরে পাঠান।

ইনজুরি সময়ে ড্যানিয়েল মুনোজের প্রচেষ্টা থেকে ফিরতি বলে ইয়োহান মোহিকার জোরালো ভলি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আতি-জিগি। বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি।

বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় কলম্বিয়া। ৫৬তম মিনিটে লুইস দিয়াজ জালের দেখাও পেয়ে যান। তবে সেই গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এক মিনিট পর আবারো দিয়াজের শক্তিশালী শট দারুণ প্রতিক্রিয়ায় রুখে দেন আতি-জিগি।

অন্যদিকে পুরো ম্যাচে ঘানার আক্রমণ ছিল বিচ্ছিন্ন। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে কয়েকবার প্রতিশ্রুতিশীল মুহূর্ত তৈরি হলেও কলম্বিয়ার রক্ষণভাগকে বড় কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।

ফলে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া। স্কোরলাইন স্বল্প ব্যবধানের হলেও ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় আধিপত্য ছিল তাদেরই। তবে আতি-জিগির অনবদ্য না হয়ে উঠলে জয়ের ব্যবধান আরো বড় হতে পারতো।

রাউন্ড অব সিক্সটিনে আগামী ৮ জুলাই সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া।