ক্লাব বিশ্বকাপে রীতিমতো উড়ছিল গত মৌসুমে ট্রেবলজয়ী ম্যানচেস্টার সিটি। প্রতি ম্যাচেই করেছে গোল উৎসব। এবার সেই উৎসব রূপ নিল বিষাদে। আকাশি-নীলদের মাটিতে নামিয়ে আনলো সৌদি ক্লাব আল হিলাল।
ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে সাত গোলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ হাসিটা উদযাপন করলো আল হিলাল। সিটিকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে সৌদির ক্লাবটি।
অরল্যান্ডোর ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে সিটি ও হিলালের ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতায় শেষ হয়। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যেখানে বিদায় ঘণ্টা বাজে পেপ গার্দিওয়ালাদের।
গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ জেতা একমাত্র দল ছিল পেপ গার্দিওলার সিটি। সেই তিন ম্যাচে ১৩ গোল করে আসরে নিজেদের শক্তির জানান দেয় আকাশি-নীলরা। আজো গোল করল ৩টি, তবে হজম করে বসল তারচেয়ে আরো একটা বেশি গোল।
উত্তেজনায় ঠাঁসা এই ম্যাচটা ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। মুহূর্তে মুহূর্তে রূপ বদলেছে খেলার, বেড়েছে রহস্য। তবে সবশেষে যে ম্যানসিটি হেরে বসবে, তা হয়তো ভাবেনি কেউ।
অবশ্য দারুণভাবে শুরু করেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। মাত্র ৯ মিনিটে বের্নার্দো সিলভার গোলে এগিয়ে যায় তারা। লিড নেয়ার পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে রাখে সিটি। বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল তারাই।
প্রথমার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর বেশ কিছু সুযোগও পেয়েছিল, কিন্তু আল হিলাল গোলরক্ষক ইয়েসিন বুনো বাঁধা হয়ে দাঁড়ান। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে প্রথমার্ধে চার চারবার গোলবঞ্চিত হতে হয় সিটিকে। বুনোর দেয়াল টপকে বল জালে পাঠাতে পারেনি ম্যানসিটি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়ায় আল হিলাল। ৬ মিনিটের ব্যবধানে দু’গোল দেয় ইনজাঘির দল। ৪৬ মিনিটে হিলালকে সমতায় ফেরান মার্কোস লিওনার্দো।
জটলার ভেতর প্রথমে ম্যালকমের শট রিয়াল গোলরক্ষক রুখে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ফিরতি বলে নজর দেয়ার মতো হেড করে বল জালে পাঠান লিওনার্দো। তবে গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি ম্যালকমকেও।
খেলার ৫২ মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন ম্যালকম। যদিও এই লিড ৩ মিনিটের বেশি ধরে রাখতে পারেনি তারা। ৫৫ মিনিটে আর্লিং হল্যান্ডের গোলে ম্যাচে ফের ২-২ সমতা ফেরায় সিটি।
এরপর আক্রমণ প্রতি-আক্রমণে খেলা জমে উঠলেও আর ম্যাচে ফেরা হয়নি কোনো দলের। চেষ্টা করেও নির্ধারিত সময়ে গোল পায়নি সিটি-হিলাল। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের খেলাতে নাটকীয়তার কমতি ছিল না। ৯৪ মিনিটে কালিদু কোলিবালির গোলে ৩-২ গোলে লিড নেয় আল হিলাল। কিন্তু ১০৪ মিনিটে সিটি আবার ম্যাচে ফেরে ফিল ফোডেনের গোলে।
খেলার স্কোর লাইন যখন ৩-৩, তখন ম্যাচের ১১২ মিনিটে লিওনার্দো নিজের দ্বিতীয় ও আল হিলালের হয়ে চতুর্থ গোল ফের এগিয়ে দেন হিলালকে। এরপর আর চেষ্টা করেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি গার্দিওলার দল।
অবিশ্বাস্য এক জয়ে ইতিহাস গড়েই মাঠ ছাড়ে সৌদি ক্লাব আল হিলাল। এর আগে দিনের অন্য ম্যাচে ইন্টার মিলানকে ২-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখায় ফ্লুমিনেন্স। তাদের সাথেই কোয়ার্টার-ফাইনালে মুখোমুখি হবে আল হিলাল।



