মেসিকে দলে পেতে ৬ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব!

লিওনেল মেসিকে দলে নিতে এক রহস্যময় ক্লাব প্রায় ৪০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন সাবেক বার্সা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ। মেসিকে ধরে রাখতে তখন বার্সেলোনা তার রিলিজ ক্লজ ৪০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৭০ কোটি ইউরো করে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসি |সংগৃহীত

সবাইকে কি শুধু টাকার অঙ্কে মাপা যায় না। সব জিনিসের কোনো আর্থিক মূল্য হয় না, লিওনেল মেসি তেমনই একজন। তবুও তাকে অবিশ্বাস্য দামে কিনতে চেয়েছিল এক রহস্যময় ক্লাব।

লিওনেল মেসি- ফুটবলের সবচেয়ে দামি নাম বললেও হয়তো ভুল হবে না। তবে দামটা ঠিক কত- তা বুঝে উঠতে একটা ঘটনাই যথেষ্ট। তাকে দলে নিতে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ঢালতে চেয়েছিল এক ক্লাব।

নেইমারের বিদায়ের পর বার্সেলোনা যখন দিশেহারা, তখন টাকার বস্তা নিয়ে কোনো এক ক্লাব মেসির জন্য এই অবিশ্বাস্য জাল বিছিয়েছিল। তারা খরচ করিতে চেয়েছিল পাঁচ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

সাবেক বার্সা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউয়ের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে সেই অবিশ্বাস্য তথ্য। কিন্তু সেই রহস্যময় ক্লাবের পরিচয় দিতে পারেননি বার্তামেউয়ে।

সম্প্রতি কাদেনা সার-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্তোমেউ জানান, ‘নেইমারের প্রস্থানের কয়েক সপ্তাহ পরেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, একটি ক্লাব মেসির জন্য ৪০ কোটি ইউরো (বাংলাদেশী টাকায় প্রায় পাঁচ হাজার ৮০০ কোটি) প্রস্তুত করছে।’

যা ছিল মেসির রিলিজ ক্লজের সমান অঙ্ক। এমনকি সেই গুঞ্জন বাস্তবে রূপ নিলে ইউরোপীয় ফুটবলের পুরো দৃশ্যপটই আমূল বদলে যেত। তবে সেই ক্লাবের পরিচয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে বাতামেউ জানান, ‘একটি আরব দেশ থেকে বড় অঙ্কের তহবিল ইউরোপের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। তবে এখন আর সেসবের গুরুত্ব নেই। ওটা অনেক পুরনো খবর; বহু বছর আগের কথা। ইংল্যান্ডে খুব কম ক্লাব আছে, কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত এমন ক্লাব খুব বেশি নেই, যারা এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা রাখে।’

আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা মেসিকে হারানোর এই হুমকি বার্সেলোনাকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছিল। তার রিলিজমূল্য বাড়িয়ে দিয়েছিল প্রায় দ্বিগুণ।

বার্তোমেউ ব্যাখ্যা করেন, ‘আমরা যা করেছিলাম তা হলো- লিওনেল মেসি ও তার বাবার সাথে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের রিলিজ ক্লজ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। সেই সময় ক্লজটি ছিল ৪০ কোটি ইউরো যা আমরা বাড়িয়ে ৭০ কোটিতে নিয়ে যাই। এটি ছিল একটি বিশাল অঙ্ক। আর যদি আপনি রিলিজ ক্লজ বাড়ান, তবে খেলোয়াড়ের বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়িয়ে দিতে হবে।’

এই পদক্ষেপটি কার্যত অন্য ক্লাবগুলোর মেসিকে পাওয়ার দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল যদিও, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটিই বার্সার ওপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ তৈরি করেছিল। যার ফলে শেষ পর্যন্ত আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে ২০২১ সালে বার্সাই তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।