ম্যাচের শুরুতে পরপর দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে গেলেও দারুণ প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে তিউনিসিয়া। প্রতিপক্ষের আক্রমণের মুখে রক্ষণভাগে দুর্বলতা দেখিয়ে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বিরতির আগেই একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আশা জাগিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দলটি।
শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগকে। ইয়াসিন আয়ারির অসাধারণ এক গোলে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে যায় সুইডেন। ম্যাচের ৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে সুইডেনের হয়ে গোলটি করেন ২২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। এরপর ৩০ মিনিটে আলেকসান্দার ইসাক গোল করে ২–০ গোলে এগিয়ে দেন সুইডেনকে।
দ্রুতগতির আক্রমণ ও বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বিস্তার করে প্রতিপক্ষ দল প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে দুই গোলের লিড নেয়। ফলে ম্যাচে টিকে থাকতে হলে বিরতির আগেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়োজন ছিল তিউনিসিয়ার।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণে মনোযোগ বাড়ায় তিউনিসিয়ানরা। মিডফিল্ডে বলের দখল বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমার্ধের ৪৩তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।
ডান প্রান্ত থেকে হানিবাল মেজব্রির নিখুঁত ক্রস পেয়ে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান ওমর রেকিক। তার এই গোলে ব্যবধান কমে ২-১ এ দাঁড়ায় এবং ম্যাচে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় তিউনিসিয়া। গোলের পর খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে এবং সমর্থকদের মধ্যেও দেখা যায় উচ্ছ্বাস।
বিরতির আগে গোলটি তিউনিসিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ দুই গোলের ব্যবধান নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরতে হলে দ্বিতীয়ার্ধে তাদের ওপর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যেত। কিন্তু রেকিকের গোল দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে এবং দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার আশা জাগিয়ে তোলে।
বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা হানিবাল মেজব্রির সৃজনশীলতা এই গোলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার নিখুঁত ক্রস ও রেকিকের শক্তিশালী হেডিংয়ের সমন্বয়ে তৈরি হওয়া গোলটি ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্তে পরিণত হয়।
প্রথমার্ধ শেষে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও তিউনিসিয়া দেখিয়ে দিয়েছে তারা সহজে হার মানার দল নয়।



