পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে টেস্ট সিরিজ শুরুর লক্ষ্য বাংলাদেশের

বাংলাদেশের পেস আক্রমণেরও প্রশংসা করেন শান্ত। যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশের মাটিতে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আজ ট্রফি হাতে দুই অধিনায়ক
আজ ট্রফি হাতে দুই অধিনায়ক |সংগৃহীত

জয় দিয়ে সিরিজ শুরুর লক্ষ্য নিয়ে শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। চলমান চতুর্থ চক্রে দুই টেস্ট খেলে একটিও জিততে পারেনি টাইগাররা। যে কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় শুরু হবে টেস্টটি।

চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে এ বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কা সফরে দুই ম্যাচ খেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ।

গত চক্রে ১২ টেস্টের মধ্যে ৪টিতে জিতে পয়েন্ট টেবিলে সপ্তম স্থান পেয়েছিল বাংলাদেশ। চার জয়ের মধ্যে ৩টিই ছিল বিদেশের মাটিতে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজও ছিল। ওই সফরের আগে ১২টি হার ও একটি ড্র’র পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা।

বিদেশের মাটিতে সাফল্য পেলেও ঘরের মাঠে বাংলাদেশের পারফরমেন্স ভালো নয়। ছয় টেস্ট খেলে মাত্র একটি জয় পেয়েছে টাইগাররা।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং পারফরমেন্স দলের সাফল্যের চাবিকাঠি হবে।

গত চক্রে ঘরের মাঠে ছয় টেস্ট খেলে মাত্র দু’বার ইনিংসে ৩০০ রানের বেশি করতে পেরেছে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে সিলেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৩১০ ও ৩৩৮ রান করেছিল তারা। ওই টেস্ট ১৫০ রানে জিতেছিল টাইগাররা।

প্রথম টেস্টকে সামনে রেখে আজ সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘আমরা যদি ৪০০ বা তার কাছাকাছি রান তুলতে পারি। সেটি আমাদের জন্যই খুব ভালো হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সবাই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পারে না এবং আমি চাই না কেউ তার স্বাভাবিক খেলার ধরন পরিবর্তন করুক। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রান করা। আমরা ৮০ ওভারে ৪০০ রান করলাম নাকি, ১২০ ওভারে করলাম তাতে কিছু আসে যায় না। আমাদের প্রথম ইনিংসে বড় রান করা গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশের পেস আক্রমণেরও প্রশংসা করেন শান্ত। যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশের মাটিতে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। টাইগার দলনেতা বলেন, ‘আমাদের পেসাররা দুর্দান্ত পারফরমেন্স করছে। গত মৌসুমে বিদেশের মাটিতে পেসারদের পারফরমেন্স অসাধারণ ছিল। কিন্তু ব্যাটিংয়ে আমাদের ধারাবাহিকতার অভাব ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরিস্থিতি যাই হোক, ব্যাটারদের লড়তে হবে এবং দলের জন্য সেরা পারফরমেন্স দিতে হবে। আশা করি তারা দায়িত্ব নিয়ে খেলবে এবং বোর্ডে ভালো স্কোর জমা করবে। সম্প্রতি পেসাররা সাদা বলের ক্রিকেটে দুর্দান্ত বোলিং করেছে। আশা করি টেস্টেও তারা দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখতে পারবে।’

বাংলাদেশকে সমীহ করছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। বাংলাদেশের উন্নতি স্বীকার করেছেন তিনি। বিশেষ করে পেস বোলিং ইউনিটে। মাসুদ বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই যে, পেস বোলিং ইউনিট হিসেবে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। কিন্তু আমি দু’দলের বোলিং আক্রমণের তুলনা করতে চাই না। আমি মনে করি, দু’দলেরই শক্তিশালী বোলিং লাইন-আপ আছে। আমরা এই সিরিজ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ফোকস করছি। আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এই সিরিজে দল হিসেবে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই।’

বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানও চলতি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে দুই ম্যাচ খেলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে তারা।

মাসুদ বলেন, ‘সব দলের ফাইনালে খেলা এবং শিরোপা জয়ের স্বপ্ন থাকে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের মনোযোগ বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে। সামনের চ্যালেঞ্জ ভালোভাবে সামলানো এবং সাফল্য পাওয়া।’

বাংলাদেশ দল : নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, এবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, তানজিদ হাসান ও অমিত হাসান।

পাকিস্তান দল : শান মাসুদ (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস, বাবর আজম, হাসান আলী, ইমাম-উল-হক, খুররম শেহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মুহাম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটরক্ষক), নোমান আলী, সাজিদ খান, সালমান আলি আগা, সৌদ শাকিল ও শাহিন শাহ আফ্রিদি।