অধিনায়ক শান্তর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুমিনুল

মুমিনুল আরো বলেন, ‘হয়তো আরো উন্নতি করবে। ওকে দেখে হয়তো আরেকজনও করবে। আমার কাছে মনে হয়, ওর ওই চাহিদা আছে, ওই ক্ষুধা আছে, দলের জন্য করার ওই ইচ্ছা আছে।’ সেঞ্চুরির পর শান্তর উদযাপন পর্ব কাছ থেকে দেখছিলেন মুমিনুল হক। উদযাপন শেষ হলে তাকে বুকে জড়ান তিনি। আর দিনশেষে মুমিনুলের উপলব্ধি, ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাচ্ছেন শান্ত।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নাজমুল হোসেন শান্ত
নাজমুল হোসেন শান্ত |সংগৃহীত

৩১ রানে জোড়া উইকেট তুলে পাকিস্তান যখন স্বাগতিকদের চেপে ধরার অপেক্ষায়, তখন দারুণ সাহসীতা দেখান নাজমুল হোসেন শান্ত। ধীর খেলার বদলে কাউন্টার অ্যাটাকে মন দেন তিনি।

যার সুফল মিলে। পাকিস্তানের বোলারদের একদমই থিতু হতে দেননি তিনি। মুমিনুল হককে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ২৫৭ বলে ১৭০ রানের জুটি। তাতেই যেন ঘুরে যায় দিনের মোড়। শেষ ৭ ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত।

শুক্রবার (৮ মে) পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসেও পেয়েছেন তিন অঙ্কের দেখা। অর্থাৎ ৮ ইনিংসে চারবার ব্যাট উঁচিয়ে ধরলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

অবশ্য বড় ইনিংস খেলার সক্ষমতা বরাবরই ছিলো শান্তর। ৩৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১৪ বার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন। এর মাঝে ৯ বারই তিনি সেঞ্চুরি পেয়েছেন, ফিফটি পেয়েছেন পাঁচটি।

টেস্টে অন্তত দুই হাজার রান করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে নিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে তার (৬১.৫৪%) ওপরে আছেন শুধু ডন ব্র্যাডম্যান (৬৯.০৫%) ও জর্জ হার্ডলি (৬৬.৬৭%)।

১২৯ বলে সেঞ্চুরির পথে ১২টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান শান্ত। তবে এরপর ইনিংসটা আর বড় হয়নি, সেঞ্চুরি করার পরের বলেই এলবিডব্লু হয়ে ফিরেন তিনি ১০১ রান নিয়ে।

বিষয়টা চোখে পড়েছে অন্য প্রান্তে থাকা মুমিনুলের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনিও কথা বলেন শান্তর বড় ইনিংস খেলা প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কনভার্সন রেট আগের চেয়ে উন্নতি হচ্ছে।’

মুমিনুল আরো বলেন, ‘হয়তো আরো উন্নতি করবে। ওকে দেখে হয়তো আরেকজনও করবে। আমার কাছে মনে হয়, ওর ওই চাহিদা আছে, ওই ক্ষুধা আছে, দলের জন্য করার ওই ইচ্ছা আছে।’

সেঞ্চুরির পর শান্তর উদযাপন পর্ব কাছ থেকে দেখছিলেন মুমিনুল হক। উদযাপন শেষ হলে তাকে বুকে জড়ান তিনি। আর দিনশেষে মুমিনুলের উপলব্ধি, ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাচ্ছেন শান্ত।

সেই সাথে শান্তর ব্যাটিংকে তামিম ইকবালের সাথে তুলনা জুড়েন মুমিনুল। তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রথম টেস্ট খেলা শুরু করি তখন নন স্ট্রাইকে থেকে বেশি উপভোগ করতাম তামিম ভাইয়ের ব্যাটিং। নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া, অনেক খারাপ কন্ডিশনেও উনি ভালো ব্যাটিং করতেন। শান্তও ওরকম করেছে। ইনিংসটি আমার দেখা ওর সেরা ইনিংসগুলোর একটি। যেভাবে প্রথম থেকে ডমিনেট করেছে, ওটা আমার অনেক ভালো লেগেছে।’

উল্লেখ্য যে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি ২৪২ রানের। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কায় সেই জুটিও গড়েছিলেন মুমিনুল ও শান্ত মিলে।

তৃতীয় উইকেটে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩০০ রান করেছেন দু’জন একসাথে। বাংলাদেশের আর কোনো জুটি ৭০০ রানও করতে পারেনি।