বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতিতে মুগ্ধ আকরাম-লতিফ

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের তৃণমূল ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও ‘এ’ দল, সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের পরিশ্রমও চোখে পড়েছে। বাংলাদেশ সত্যিই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ওয়াসিম আকরাম ও রশিদ লতিফ
ওয়াসিম আকরাম ও রশিদ লতিফ |সংগৃহীত

২০২৪ সালে পাকিস্তান সফরে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এবার ঘরের মাঠে ব্যাট-বল হাতে দাপট দেখিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে আবারো হোয়াইটওয়াশ করেছে টাইগাররা। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি দেখে মুগ্ধ পাকিস্তানের দুই সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম ও রশিদ লতিফ।

মিরপুরে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। সিলেটে পরের টেস্ট ৭৮ রানে জিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকরাম লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের টানা দ্বিতীয় হার দেখাটা সত্যিই হতাশাজনক। তবে বিজয়ীদের পুরো কৃতিত্ব দিতেই হবে। কারণ তারা সেরা ক্রিকেট খেলেছে। একসময় বাংলাদেশের উইকেট মানেই ছিল মন্থর, নিচু ও স্পিন-সহায়ক। কিন্তু উদীয়মান পেসারদের সহায়তায় এখন তারা চমৎকার টেস্ট উইকেট বানাচ্ছে, যারা গতিতে পাকিস্তানকে বিপদে ফেলেছে।’

বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানার প্রশংসা করেছেন আকরাম, ‘টেস্ট সংস্করণে সেরা দলগুলোর সাথে লড়াই করার জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত বাংলাদেশ। নাহিদ রানা হলো- অসাধারণ এক প্রতিভা। তার বোলিং পারফরমেন্স চোখ জুড়ানো। অভিনন্দন বাংলাদেশ।’

পাকিস্তানের টিভি চ্যানেলে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে লতিফ বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক উন্নতি হয়েছে। দুই বছর আগে পাকিস্তান সফরে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে সিরিজ জিতল। বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়ে গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রিকেট খেলেছে তারা। দুই টেস্টেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে দলটি। অনেক রানও করেছে। নতুন বল হাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের তৃণমূল ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও ‘এ’ দল, সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের পরিশ্রমও চোখে পড়েছে। বাংলাদেশ সত্যিই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে।’

দুই টেস্টের চার ইনিংসেই পাকিস্তানকে অলআউট করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। কোনো ম্যাচেই লিড নিতে পারেনি পাকিস্তান। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে মেহেদি হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা ইনিংসে ৫টি করে উইকেট নেন। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের পেসার ও স্পিনারদের প্রশংসা করে লতিফ বলেন, ‘পেসার ও স্পিনাররা খুব ভালো পারফরমেন্স করেছে। উইকেট খুব বেশি সাহায্য না করলেও স্পিনাররা বড় অবদান রেখেছে। এটা পুরোনো বাংলাদেশ নয়, যারা শুধু টার্নিং ট্র্যাক বানিয়ে জিততে চাইত। এখন বাংলাদেশ পেসার ও স্পিনার দুটো দিয়েই জেতার চেষ্টা করছে।’

হোয়াইটওয়াশ হলেও, পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন লতিফ। পাকিস্তানও ভালো ক্রিকেট খেলেছে বলে জানান তিনি। লতিফ বলেন, ‘পাকিস্তান ভালো লড়াই করেছে। এটা বলা যাবে না, তারা খুব খারাপ ক্রিকেট খেলেছে। প্রথম টেস্টে জয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু পারেনি। দ্বিতীয় টেস্টে ৪৩৭ রান, অনেক বড় লক্ষ্য ছিল। পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে, শেষ পর্যন্ত লড়াইও করেছে।’