বিশ্বরেকর্ড গড়তে চায় পাকিস্তান, হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য বাংলাদেশের

সিলেট টেস্টে ৪৩৭ রানের অসম্ভব লক্ষ্য দিয়ে পাকিস্তানকে বিশ্বরেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। জিততে পারলে টাইগাররা করবে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ। লিটন-শান্তদের ব্যাটিংয়ের পর এখন বোলারদের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ, যদিও ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে লড়াইয়ের আশা ছাড়ছে না পাকিস্তানও।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

সিলেট টেস্ট এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। লিটন-শান্তরাই এখন চালকের আসনে। তিন দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছেন টাইগাররা। এখন কেবল শেষ সময়ে কোনো অঘটন না ঘটার অপেক্ষা।

ব্যাটাররা তাদের কাজটা করে দিয়েছেন ঠিকটাক। লিডসহ স্কোরবোর্ডে আছে চার শতাধিক রান। এবার কাজটা বোলারদের। সিরিজজুড়ে যেভাবে পারফর্ম করেছেন তারা, সেই ধারাটা ধরে রাখলেই হবে।

ব্যাট হাতে বড় পুঁজি নিয়ে থামে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান তোলে টাইগাররা। আগের ইনিংসের লিডসহ পুঁজি দাঁড়িয়েছে ৪৩৬ রানে। জয়ের জন্য পাকিস্তানকে গড়তে হবে বিশ্ব রেকর্ড।

এখন পর্যন্ত এত রান তাড়া করে সিলেটে জেতেনি কোনো দল। সিলেট নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেই চতুর্থ ইনিংসে এত রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই কেনো দলের। ক্রিকেট ইতিহাসেও অবিশ্বাস্য।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮ করে জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে অক্ষুণ্ণ এই রেকর্ড।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে জিততে হলে এটা ভেঙে নতুন বিশ্বরেকর্ড করতে হবে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে। ৪৩৭ রান করতে পারলে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখবে পাকিস্তান।

ইতিহাস অবশ্য কিছুটা কথা বলছে পাকিস্তানের পক্ষে। টেস্টে পাকিস্তানের চারশর বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড হয়তো নেই, তবে চতুর্থ ইনিংসে দু’বার চার শতাধিক রান তুলেছে দলটা।

যদিও তা মোটেও সহজ হবে না। সিলেটে চতুর্থ ইনিংসে দুই শ’ রান করার রেকর্ডও নেই। সর্বোচ্চ ১৮২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ফলে পাকিস্তানকে পাড়ি দিতে হবে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত তারা।

পাকিস্তানের প্রতিনিধি হয়ে সোমবার তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন পেস বোলিং কোচ উমর গুল। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তান জয়ের জন্যই খেলবে। জানান তারা রান তাড়া করতে চান।

পাকিস্তানকে আশা দেখাচ্ছে সিলেটের উইকেট। উইকেট এখনো ব্যাটিং উপযোগী বলে মনে করছেন উমর গুল। বলেন, ‘প্রথম দিনে উইকেটে আর্দ্রতার কারণে বোলারদের জন্য সহায়তা ছিল, কিছু সিম ও সুইং পাওয়া যাচ্ছিল।’

‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে আমি বলব, এটি ব্যাটারদের জন্য একদম ভালো ছিল। বল এমনভাবে ব্যাটে আসছে যে ব্যাটাররা অনেক সময় পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য খুবই ভালো রয়েছে।’

এদিকে বাংলাদেশ ১০ উইকেট নিতে পারলে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করবে। যেই কাজটা দু’বছর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে করেছে বাংলাদেশ। তবে তাদের চিন্তাতেও এই উইকেট।

সংবাদ সম্মেলনে এসে তাইজুল এমন উইকেটে আরো কিছু রান করতে না পারার আক্ষেপের কথা স্পষ্ট করেই জানান। বলেন আরো অন্তত ৪০-৫০ রান করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ দল।

তবে তার মনে এই রানও যথেষ্ট হতে পারে। যার কারণ হিসেবে তাইজুল বলেন, ‘তারা যখন ৪৩৬ রানের বিশাল সংখ্যাটা দেখবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের মাথায় অনেক মনস্তাত্ত্বিক চাপ কাজ করতে পারে।’

নিজেদের কী করতে হবে- তাও স্পষ্ট করেন তিনি। বলেন, ‘উইকেট যেমনই থাকুক, আমাদের মূল কাজ হলো শতভাগ শৃঙ্খলা মেনে লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বোলিং করে যাওয়া।’

সেই লক্ষ্য নিয়েই আজ মঙ্গলবার সিলেটে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবে বাংলাদেশ। খেলা শুরু সকাল ১০টায়।