বড় পুঁজি নিয়ে থামলো বাংলাদেশ। সিলেটে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান তুলেছে টাইগাররা। আগের ইনিংসের লিডসহ পুঁজি দাঁড়িয়েছে ৪৩৬ রানে। জয়ের জন্য পাকিস্তানকে গড়তে হবে রেকর্ড।
এখন পর্যন্ত এতো রান তাড়া করে সিলেটে জেতেনি কোনো দল। সিলেট নয়, বাংলাদেশের মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে এতো রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই কেনো দলের।
সোমবার ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। তবে ৫ রান যোগ হতেই ফেরেন আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪৬ বলে ১৫ করে খুররম শেহজাদের শিকার তিনি।
এরপর অবশ্য আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। লিটন দাসকে নিয়ে মুশফিক ধরেন হাল। লিটন রান তোলেন ওয়ানডে গতিতে। দুজনের জুটিতে ১৮৮ বলে যোগ হয় ১২৩ রান। ৬৭ বলে ফিফটি করেন লিটন।
প্রথম ইনিংসের এই সেঞ্চুরিয়ান এবারো ছুটছিলেন শতকের পথেই। তবে ৫৭তম ওভারে এসে ৯২ বলে ৬৯ করে সাজিদের শিকার হয়ে থামতে হয় তাকে। ২৩৮ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর নেমে মেহেদী মিরাজ অবশ্য থিতু হতে পারেননি, ৩৯ বলে ১৯ রান করে আউট হন তিনি। এরপর তাইজুলকে নিয়ে ইনিংস টানতে থাকেন মুশফিক। দলকে তিন শ’ পার করিয়ে যান চা বিরতিতে।
সেঞ্চুরি উদযাপনের মঞ্চ তৈরি করেই চা বিরতিতে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। ফিরে এসে মাইলফলক স্পর্শ করতে আর দেরি করলেন না, ব্যাট উঁচিয়ে সারলেন উদযাপন।
১৭৪ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছান তিনি। তাতেই গড়েছেন দারুণ এক রেকর্ড। দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি এখন তার। এটি তার ১৪তম সেঞ্চুরি। ১৩ সেঞ্চুরি আছে মুমিনুল হকের।
সেই সাথে আরো একটি রেকর্ড গড়েছেন মুশফিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক যদিও আগেই হয়েছিলেন, এবার তিনি পেরিয়ে যান ১৬ হাজার রানের গণ্ডি।
সেঞ্চুরি উদযাপন শেষ হতেই আউট হন তাইজুল (৫১ বলে ২২)। ভাঙে মুশফিকের সাথে তার ৭৭ রানের জুটি। এরপর তাসকিন ৬ ও শরীফুল ১২ রান করেন। মুশফিকের আউটেই অবশ্য শেষ হয় ইনিংস।
১০২.২ ওভারে মুশফিক আউট হন ২৩৩ বলে ১২ চার ১ ছক্কায় ১৩৭ রান করে। সাজিদ খানের শিকার তিনি। সব মিলিয়ে সাজিদ ৩, হাসান আলী ২ ও খুররম শেহজাদ নেন ৪ উইকেট।
পাহড়সম লক্ষ্য নিয়ে তৃতীয় দিনের শেষ বেলায় ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। খেলা হয় মাত্র দু’ওভার। কোনো রান করেনি পাকিস্তান। তাই আগামীকাল চতুর্থ দিনে প্রথম থেকেই শুরু করবে সফরকারীরা।



