ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে : শান্ত

পাকিস্তানের বিপক্ষে সাহসী ইনিংস ঘোষণা ও ১০৪ রানের জয়কে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার মতে, জয়ের মানসিকতা ও বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সই এনে দিয়েছে ঐতিহাসিক এই জয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

চিত্রনাট্য ধরে ধরে, হিসাব কষে কষে যেন মিরপুর টেস্ট জিতল বাংলাদেশ। বলে-কয়ে জয় যাকে বলে! দলের ভেতরকার পরিকল্পনার সুন্দর রূপ দেখা গেল মাঠে।

মিরপুর টেস্ট জিততে শেষ দিনে দু’টি করণীয় ঠিক করেছিল বাংলাদেশ। প্রথমত সকালে ২০-২৫ ওভারে লিডটা ২৬০-২৭০ এ নিয়ে যাওয়া। আর পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের জন্য ৭০-৭৫ ওভার দেয়া।

সোমবার চতুর্থ দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল এই বার্তাটাই দিয়েছিলেন। হলোও যেন তাই। যেমন বলেছিলেন তিনি, মাঠেও দেখা গেল তেমন রূপ।

৩ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে প্রথম সেশনে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে আরো ৮৮ রান যোগ করে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ২৪০ রানে।

প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড থাকায় চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের টার্গেট দাঁড়ায় ২৬৮ রান। মিরপুরে গত ১৬ বছরে যেখানে দেড় শ’ রান তাড়া করে জিতেনি কোনো দল; সেখানে এই রান অসাধ্যই ছিল বটে।

তবুও চ্যালেঞ্জ দিয়ে রেখেছিল পাকিস্তান। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সালমান আগা বলেছিলেন, বাংলাদেশ ২৬০ করলেও তারা জিতে যাবেন। তবে মিরপুরকে হয়তো ভালো করে চেনা হয়নি তার।

দেড় শ’ পেরিয়েই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ১৬৩ রানে শেষ হয় তাদের দৌড়। বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতে যায় ১০৪ রানে। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট জিতল বাংলাদেশ।

যদিও ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বললেন, সালমানের ওই চ্যালেঞ্জের কথা জানতেন না তিনি। জয়ের লক্ষ্যেই পরিকল্পনা সাজিয়েছিল তার দল।

শান্ত বলেন, ‘আজকে সকাল থেকে আমাদের একটা বার্তা ছিল যে আমরা খেলাটা জেতার জন্য খেলব। পরিস্থিতি যেরকমই থাকুক। চা বিরতির সময় কোচ এই বার্তাও দিয়েছে যে যদি নাও জিততে পারি তাহলে ওদের যেন কষ্ট হয় ম্যাচটা বাঁচাতে। এরকমই মনোভাব ছিল।’

‘একবারের জন্যও এরকম চিন্তা করিনি যে আমরা হেরে যেতে পারি বা এখান থেকে আমরা খেলাটা ড্র করতে চাই। আমাদের ওই আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছিল এবং আমরা জেতার জন্য চেষ্টা করেছি।’

এভাবে সাহসের সাথে ইনিংস ঘোষণা ও এই দারুণ জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রেরনাদায়ক এক বিজ্ঞাপন হয়ে থাকবে, মনে করেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচে সব থেকে বড় দিক হলো, আমরা যে ইনিংস ঘোষণা করেছি এটা অনেক বড় সিদ্ধান্ত ছিল।’

‘যেটা সাধারণত আমাদের দল কখনো করে নাই এভাবে। এটা হয়তো ভবিষ্যতে আমাদের আত্মবিশ্বাস যোগাবে যে এখান থেকেও এভাবে ম্যাচ জেতা সম্ভব। তাই আমি বলব যে পুরা টেস্ট ম্যাচে এটাই নতুন জিনিস হয়েছে।’

শান্ত জানান, তার সাহসী সিদ্ধান্তের পেছনের কারণও। বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে কারণটা হলো, যে পাঁচজন বোলার আমরা এই ম্যাচে খেলিয়েছি, সবাই স্কিলফুল এবং সবাই ভালো বল করেছে।’

উদাহরণ দেখিয়ে বলেন, ‘মিরাজ যেভাবে শুরুটা এনে দিয়েছে, তাসকিন যেভাবে প্রথম উইকেটটা নিলো, ওইখান থেকে মোমেন্টামটা পাওয়া। এরপর তাইজুল ভাই মাঝের ওভারে দারুণ বোলিং করেছে। বিশেষ করে এই ইনিংসে তাসকিন ও রানার ওই স্পেলটা অসাধারণ ছিল।’