ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে টাইগারদের ঐতিহাসিক সিরিজ জয় হয়েছে। মিরপুরের পর সিলেটেও দুর্ভেদ্য স্বাগতিকেরা। দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
তৃতীয় দিন শেষেই তৈরি হয়ে যায় মঞ্চ। চতুর্থ দিন রোমাঞ্চ ছড়ালেও শেষ বেলায় জয়ের সুবাস পেয়ে যায় বাংলাদেশ। আজ বুধবার পঞ্চম দিনে বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। সেই আনুষ্ঠানিকতা সারতে দেরি হয়নি।
মঙ্গলবার পাকিস্তান দিন শেষ করেছিল ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে। জয়ের জন্য আজ ১২১ রান প্রয়োজন তাদের। বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩ উইকেট। প্রথম সেশনের মাত্র ১১.২ ওভারেই ফুরিয়েছে সেই অপেক্ষা।
আজ জোড়া উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। সব মিলিয়ে ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সাদা পোশাকে এই নিয়ে ১৮ বার ৫ উইকেট নিলেন তিনি। দিনের অন্য উইকেটটা নেন শরীফুল ইসলাম।
পঞ্চম দিনে অবশ্য খানিকটা ভয় ধরিয়ে দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দুজনের জুটি পঞ্চাশ পেরোয়। দু’জনেই ছিলেন আগ্রাসী। অবশ্য এই জুটি ভাঙার একটা সুযোগ এসেছিল ৯৩তম ওভারে।
সাজিদকে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বাউন্সার মেরেছিলেন নাহিদ। পুল করতে গিয়ে বল আকাশে তোলেন তিনি। তবে উইকেটকিপার লিটন দাস ও তাইজুল ইসলামের মাঝে বলটা পড়ে যায়।
তবে অপেক্ষা বাড়াননি তাইজুল। ৯৬তম ওভারে তার দ্বিতীয় বলে স্লিপে শান্তকে ক্যাচ দেন ২৮ রান করা সাজিদ। তাতে ভাঙে রিজওয়ানের সাথে তার ৫৪ রানের জুটি। সেখানেই শেষ হয় পাকিস্তানের প্রতিরোধ।
এরপর ৯৭ তম ওভারের প্রথম বলেই শতকের পথে হাঁটা রিজওয়ানকে থামান শরীফুল। মিরাজকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ১৬৬ বলে ৯৪ রান করা রিজওয়ান। পরের ওভারে তাইজুল আব্বাসকে (০) ফেরাতেই শেষ হয় অপেক্ষা।
ফলে দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। এই নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্টও জিতল টাইগাররা। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে আর কোনো দলের বিপক্ষে টানা এত ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ।



