হারারেতে জিম্বাবুয়ে ঝড় থামালেন তাইজুল, একাই নিলেন ৭ উইকেট

জিম্বাবুয়ের লিড আরো বড় হতে পারতো, যদি না তাইজুল জ্বলে উঠতেন। ৪০.২ ওভার বল করে একাই ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুই উইকেট নেন খালেদ আহমেদ। অন্যটা রান আউট।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তাইজুল ইসলাম
তাইজুল ইসলাম |সংগৃহীত

হারারেতে হরর শো থামাতে ওঝা খুঁজছিল বাংলাদেশ। সেই ওঝার দায়িত্ব কাঁধে নিলেন তাইজুল ইসলাম। অন্যরা যখন হাপিত্যেশে ব্যস্ত, তখন তিনি একাই আটকেছেন জিম্বাবুয়েকে।

বাংলাদেশের করা ১৪০ রানের বিপরীতে প্রথম ইনিংসে ৪১০ রান করেছে জিম্বাবুয়ে। সব মিলিয়ে ২৭০ রানের বিশাল লিড পেয়েছে স্বাগতিকেরা। সেঞ্চুরি করেছেন ইনোসেন্ট কাইয়া।

লিড আরো বড় হতে পারতো, যদি না তাইজুল জ্বলে উঠতেন। ৪০.২ ওভার বল করে একাই ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুই উইকেট নেন খালেদ আহমেদ। অন্যটা রান আউট।

ইনিংস ব‍্যবধান হার এড়ানোর কঠিন লড়াই সফরকারীদের সামনে। প্রথম চ‍্যালেঞ্জ অবশ‍্য দ্বিতীয় দিনে শেষ বেলা নিরাপদে কাটিয়ে দেয়া। আজ ১৫ ওভার ব্যাট করতে হতে পারে টাইগারদের।

সাদা পোশাকে ৪১০ রান অস্বাভাবিক কিছু নয়, তবে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং মূলত ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। হারারেতে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দাঁড়াতেই পারেনি টাইগাররা।

প্রথম দিনে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১৪০ রানে। একপর্যায়ে রান ছিল ২ উইকেটে ১১৩। ৬০ রান করা মুমিনুল হকের বিদায় দিয়ে শুরু হয় উল্টো যাত্রার। ২৭ রানেই পতন হয় ৮ উইকেটের!

জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা সেই ভুল করেননি। উদ্বোধনী জুটিই দলকে দারুণ ভিত গড়ে দেয়। প্রথম দিন শেষে তাদের রান ১ উইকেটে ১৩৬। ইনোসেন্ট কাইয়া আপরাজিত থাকেন ৭৬ রানে।

এমতাবস্থায় দ্বিতীয় দিনে অবিশ্বাস্য কিছু করতে হতো টাইগার বোলারদের। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই স্বাগতিকদের চেপে ধরতে হতো। সকাল সকাল তুলে নিতে হতো বেশ কয়েকটি উইকেট।

কিন্তু তা করতে পারেননি খালেদ-তাইজুলরা। ব্রেন্ডন টেলরকে (৫৪ বলে ১৭) ফিরিয়ে দিনের শুরুতে একটা উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন বটে খালেদ, তবে পরের অধ্যায়টা আরো হতাশার।

ব্রায়ান বেনেটকে নিয়ে ওয়ানডে মেজাজে রান তুলছেন ইনোসেন্ট কাইয়া। দু’জনের জুটিতে যোগ হয় ১৪৩ বলে ১০৭ রান। কাইয়া তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। বেনেট আউট হন ৬৭ বলে ৫৯ করে।

তাকে ফিরিয়েই তাইজুল শো শুরু। এরপর কাইয়াকেও ফেরান তিনি। ২২৭ বলে ১৪০ রান করে আউট হন জিম্বাবুয়ে ওপেনার। এরপর একে একে আরো ৫ উইকেট নেন তাইজুল।

মাঝে ক্রেইগ আরভিন ১০০ বলে ৬০ রান করেন। ১০৮ বলে ৭৭ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়েসলে মাধেভেরে।