আগামী মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে শুরু হতে যাওয়া নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের অতীত ইতিহাস বদলাতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
অতীতের সব রেকর্ড মুছে আসন্ন বিশ্বকাপে ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন টাইগ্রেস দলনেতা জ্যোতি।
রোববার মিরপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। বিশ্বকাপের আগে স্কটল্যান্ডের মাটিতে নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজও খেলবে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারার লক্ষ্য বাংলাদেশের।
স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিতে আজ দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এবং কাল সকালে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ নারী দল।
২০১৪ সাল থেকে নিয়মিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি টাইগ্রেসরা। বিশ্বকাপের আগের ৬ আসরে ২৫ ম্যাচ খেলে মাত্র ৩টিতে জিতেছে তারা। বাকি ২২ ম্যাচই হেরেছে বাংলাদেশ।
ইংল্যান্ডে আসন্ন বিশ্বকাপে আরো বেশি জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস রচনার চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের বলে জানান জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় আমরা জয়বিহীন ছিলাম। তবে আমি এটাকে বোঝা হিসেবে দেখছি না। ইতিহাস বদলে দেয়ার একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুবাইয়ে একটি ম্যাচ জিতেছিলাম আমরা। আরো ভালো কিছু ম্যাচ খেলেছিলাম, কিন্তু ম্যাচ জিততে পারিনি। এবার আরো বেশি জয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনা আছে। দলে এখন টি-টিয়েন্টি ফরম্যাটের অনেক পারফরমার যোগ হয়েছে, যা আগে ছিল না। ক্রিকেটারদের ভেতর বিশ্বকাপ মঞ্চে শুধুমাত্র ভালো খেলাই নয়; ম্যাচ জয়ই এখন প্রধান লক্ষ্য।’
বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস। এর মধ্যে তিনটি দলকে হারানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের। জ্যোতি বলেন, ‘আমাদের দু’টি ম্যাচে জেতার অনেক বড় সুযোগ আছে। একটা হচ্ছে নেদারল্যান্ডস, অন্যটি পাকিস্তান। ভারতের সাথে আমাদের খেলার অভিজ্ঞতা আছে। ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে আমাদের ম্যাচ জেতারও অভিজ্ঞতা আছে। আমরা প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। শুরুটা যদি ভালো হয়, তাহলে টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচগুলোতে আত্মবিশ্বাস পাওয়া যাবে।’
২৮ মে থেকে ৪ জুন স্কটল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টে চার ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে টাইগ্রেসরা। বিশ্বকাপে আগে ক্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে দল নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করেন জ্যোতি।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার জন্য স্কটল্যান্ডে যাব। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার এটা অনেক বড় সুযোগ। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আমরা যদি সম্মিলিতভাবে ক্রিকেটটা খেলতে পারি, অবশ্যই আগের অনেক বিশ্বকাপের চেয়ে ভালো ফলাফল পাবো।’
জ্যোতি আরো বলেন, ‘প্রত্যেকবার আইসিসি টুর্নামেন্টের সময় আমরা আন্তর্জাতিক সিরিজ বা কোনো প্রস্তুতির সুযোগ পেতাম না। এটা আমাদের একটা অভিযোগ ছিল। এবার আমাদের সেটা নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলেছি, সামনে ত্রিদেশীয় সিরিজে চারটি ম্যাচ খেলব। আমাদের জন্য এর চেয়ে বড় ও আদর্শ প্রস্তুতি আর হতে পারে না। এ ছাড়াও আইসিসির দু’টি অনুশীলন ম্যাচ আছে।’
বিশ্বকাপে ভালো পারফরমেন্স করতে পারলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলার দরজা খুলবে বলে মনে করেন জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ সবচেয়ে বড় স্পট লাইট বলা যেতে পারে, বিশ্ব ক্রিকেটের সবার নজর থাকে যেখানে। এসব জায়গায় যখন ভালো পারফর্ম করি, তখন দল নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে ভালো করলেও তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ আসে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বকাপ আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ। দলের সবাই ইতিবাচক আছে। এই দল যদি বিশ্বকাপে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে, বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য অনেক ভালো হবে।’
১৪ জুন বার্মিংহামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ১৭ জুন লিডসে অস্ট্রেলিয়া, ২০ জুন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পাকিস্তান, একই মাঠে ২৫ জুন ভারতের এবং ২৮ জুন লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
৩০ ও ৩১ মে এবং ২ জুন ও ৪ জুন ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচগুলো খেলবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল : নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া আক্তার, তাজ নেহার।



