বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমানো হয় ৪২ ওভারে। কিন্তু এরপর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের দুই ব্যাটারের ব্যাটে যে ঝড় উঠবে তা হয়তো ভাবেনি গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।
শুক্রবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ৯ম রাউন্ডের ম্যাচে বিকেএসপির ২ নম্বর মাঠে রানের সুনামি বইয়ে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়। বিধ্বংসী সেঞ্চুরি করেছেন দু’জনই।
৫৫ বলে ১০০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পথেই দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশফিকুর রহিম। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১২ হাজার রানের এলিট ক্লাবে প্রবেশ করলেন ৩৯ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটার। বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা এই ব্যাটারের ৫০ ওভারের সংস্করণে ৩৬২ ইনিংসে এখন সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৫টি, পাশাপাশি আছে ৭৭টি হাফ সেঞ্চুরি।
মুশফিক-হৃদয়ের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৩ রানের পাহাড় গড়েছে মোহামেডান। ৬৬ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলা হৃদয় ছিলেন অপরাজিত।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মোহামেডানের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে উদ্বোধনী জুটিতেই দুর্দান্ত শুরু এনে দেন এনামুল হক বিজয় ও নাঈম শেখ। উদ্বোধনী জুটিতেই স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১০৭ রান। প্রথম আঘাত হানেন গাজী গ্রুপের বোলাররা, ৬০ বলে ৫৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার নাঈম। দলীয় দেড় শ’র ঠিক আগমুহূর্তে বিদায় নেন আরেক ওপেনার বিজয়ও।
দুই ওপেনার ফেরার পর শুরু হয় আসল ‘শো’। উইকেটে এসে গাজী গ্রুপের বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিমরোলার চালান মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন গড়েন মাত্র ১০৫ বলে ১৭৩ রানের এক অসাধারণ জুটি।
মুশফিক এদিন যেন টি-টোয়েন্টি মেজাজে ছিলেন। মাত্র ৫৪ বলে স্পর্শ করেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের দ্রুততম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৫৫ বলে ১০০ রান করে যখন তিনি প্যাভিলিয়নে ফিরছেন, তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ৮টি চার ও ৬টি চোখধাঁধানো ছক্কা।
রান তাড়ায় ৪১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। বৃষ্টি বাঁধায় বন্ধ আছে খেলা।



