হোয়াইটওয়াশ এড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। মান বাঁচাতে চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি তারা। যার সুফলও মিলেছে। দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়ে ম্যাচটা তারা জিতে নিয়েছে।
বিশ্বের মাত্র চতুর্থ দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার মোক্ষম সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বাধা হয়ে দাঁড়ান কোপার কনোলি। তার ব্যাটে ভর করে শেষ ম্যাচে ১ উইকেটে জিতেছে অজিরা।
রোববার মিরপুরে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে টসে জিতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান করে বাংলাদেশ। যা ৩ বল বাকি থাকতে কোনোরকমে পাড়ি দিয়েছে অজিরা। ‘বৃথা’ গেছে শরীফুলের ৬ উইকেট।
সুযোগ ছিল ৪৪ ওভার পর্যন্ত। ৩৬ বলে ৩০ রান প্রয়োজন ছিল। তবে তাসকিন ১ ওভারেই দেন ২১ রান। পরের দুই ওভারে শরীফুল ১ রান দিয়ে তিন উইকেট নিলেও শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে জেতা হয়নি টাইগারদের।
এদিন গলার কাঁটা হয়ে ওঠেন কনোলি। ইনিংসের শুরু থেকে ব্যাট করছেন একদম ৪৯ ওভার পর্যন্ত। ১৩ চার ও ৬ ছক্কায় ১৩৪ বলে ১৪৯ রানের ইনিংস খেলে অজিদের জয়ের নায়ক তিনিই। নিষ্ফল হয় শরীফুলের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং।
এবার ফেরা যাক বিবরণীতে। আগের দুই ম্যাচে প্রথম ওভারেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটি ভেঙে দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে আজ পারেনি, প্রথম উইকেটের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে পঞ্চম ওভার পর্যন্ত।
পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে এসে জোড়া উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে উদযাপনের উপলক্ষ এনে দেন শরীফুল ইসলাম। সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেন এই বাঁহাতি পেসার।
১২ বলে ২১ রান করা জশ ইংলিসকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন শরীফুল। এক বল পরই ম্যাট রেনশকে বোল্ড করেন তিনি। ৪০ রানে ২ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
দলকে ৭০ রানে রেখে ফেরেন অ্যালেক্স ক্যারি। ১৬ বলে ৮ করে তাসকিনের শিকার হন। পরের উইকেটের পতন হয় ১৩৪ রানে, লাবুশেন শরীফুলের তৃতীয় শিকার হন ৪৫ বলে ২৯ রান করে।
তবে একপ্রান্ত আগলে রান করে যান কনোলি। দলের ওপর চাপ বাড়তে দেননি তিনি। তাকে রেখেই ফেরেন ক্যামেরন গ্রিনও (৩৫ বলে ২৭)। ততক্ষণে জয়ের দুয়ারে পৌঁছে যায় অজিরা।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে শুরু হয় শরীফুল শো। পরপর দুই ওভার বল করে মাত্র ১ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। জমিয়ে তোলেন ম্যাচ। সাথে যোগ দেন মোস্তাফিজ, নিজের শেষ ২ ওভারে ৫ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন তিনিও।
৫ উইকেটে ২৬৬ থেকে অজিরা ৪৯ ওভার শেষে স্কোর পরিণত হয় ৯ উইকেটে ২৭১ রান। শেষ ওভারে ৩ রান ডিফেন্ড করতে হতে তাসকিনকে। তবে আজকের দিনটা তার ছিল না। তৃতীয় বলেই বাউন্ডারি হজম করে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি।
এই সময়ের মাঝে ফেরেন কনোলিও, এ ছাড়া ৩২ বলে ২৭ রান করে আউট হন অলিভার পিক। এদিকে ১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিলেন শরীফুল। যা তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং।
এর আগে ৬১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর মিডল অর্ডারের দৃঢ়তায় ৫ উইকেটে ২৭৪ রান করে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয় ৮৮ বলে ৮৩, লিটন দাস ৭৮ বলে ৫৮* ও মোসাদ্দেক হোসেন ৫১ বলে করেন ৫৬ রান।
এদিন অবশ্য ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। চতুর্থ বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার (২)। এরপর তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন।
তবে বেশিক্ষণ পারলেন না। দুজনেই ফেরেন প্রায় একইসাথে। পাওয়ার প্লের শেষ বলে অপ্রয়োজনীয় শট খেলতে গিয়ে ফিরেছেন তামিম। তাতে ১০ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৫৩ রান এলেও চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। তামিম আউট হন ২০ বলে ১৯ করে।
তাতে ভাঙে শান্তর সাথে তার ৫৬ বলে ৫১ রানের জুটি। এরপর বেশিক্ষণ টেকেননি শান্তও। ৮ রান যোগ হতেই আউট হন ৫০ বলে ২৪ করে। ভেঙে যায় টপ অর্ডার। তবে বিপদ বাড়তে দেননি লিটন ও তাওহীদ হৃদয়।
দেখেশুনে খেলতে থাকেন তারা। জমে ওঠে তাদের জুটি। তবে জুটিতে ১০৭ বলে ৯২ রান আসার পরই মাঠ ছাড়তে হয় লিটনকে। রিটায়ার্ড হার্ট হন তিনি। পেশির অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়ে উঠে যান ৭৩ বলে ৪৮ রান নিয়ে।
তার বদলে মাঠে আসেন মোসাদ্দেক। তবে তিনিও সামলে নেন পরিস্থিতি। হৃদয়ের সাথে তার জুটিও বড় হয়। দুজনে যোগ করেন ৮৩ বলে ৯৩ রান। দুজনেই পেয়ে যান ফিফটি। হৃদয় তো হাঁটছিলেন শতকের পথেই।
তবে দলের রান বাড়াতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসেন ১৭ রান দূরে থাকতেই। তিনি আউট হওয়ার পর মাঠে আসেন ৩ বছর পর ওয়ানডে দলে সুযোগ পাওয়া শেখ মেহেদী। তবে সুযোগ পেয়েও আশাহত করেন তিনি।
এরপর তিনি আউট হলে মাঠে ফেরেন লিটন দাস। মাঠে এসে মেটান অপেক্ষা। ১১ বছর, ২৭ ওয়ানডে ইনিংস পর এই প্রথম মিরপুরে পান ফিফটির দেখা। শেষ ওভারে একটা ছক্কা মেরে রানটা তিনিই ২৭৪ পর্যন্ত নিয়ে যান।
অজিদের হয়ে আজ জোড়া উইকেট নিয়েছেন জেভিয়ার বার্টলেট ও ম্যাট রেনশ।



