সিলেট টেস্টের প্রথম দিন বাদে পরের তিন দিন দাপট ছিল স্বাগতিকদেরই। তবুও খেলাটা চলে আসে পঞ্চম দিনে। তবে জয়ের আবহ নিয়ে এইদিন মাঠে নামলেও সকালের কিছু ভুলে ভয় ধরে গিয়েছিল।
ভয়ের কারণও আছে। তীরে এসে তরি তো কম ডুবেনি বাংলাদেশের। যার পেছনে বড় কারণ বাজে ফিল্ডিং। এই সিরিজে দুর্দান্ত ফিল্ডিং করা টাইগাররা ভুল করে বসে আজ শেষ মুহূর্তে এসে।
প্রথম ওভারেই নাহিদ রানার বলে রিজওয়ানের ক্যাচ ফেলে দেন মেহেদী মিরাজ। যদিও কঠিন ছিল। তবে পরের ভুলটা ছিল হাস্যকর। নাহিদেরই ওভারে তাইজুল ও লিটন দাসের মাঝ হয় ভুল বোঝাবুঝি।
রানার বলে সাজিদের ব্যাটে লেগে উপরে উঠে যায়। তবে ক্যাচটার জন্য গেলেনই না তাইজুল বা লিটন দাস। আকাশে উড়তে থাকা বল মাটিতে গড়ায় তাদের দু’জনের মাঝে।
ফলে সমর্থকদের মনে প্রশ্ন উঠে, কী হচ্ছে এসব! শরীরী ভাষায় ভয় ও দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। তবে সব শঙ্কা দূর হয়ে গেছে, ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ম্যাচটা হেসেখেলেই জিতেছে।
মঙ্গলবার পাকিস্তান দিন শেষ করেছিল ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে। জয়ের জন্য আজ বুধবার ১২১ রান প্রয়োজন তাদের। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩ উইকেট। মাত্র ১১.২ ওভারেই যা তুলে নেয় টাইগাররা।
আজ জোড়া উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। সব মিলিয়ে ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সাদা পোশাকে এই নিয়ে ১৮ বার ৫ উইকেট নিলেন তিনি। দিনের অন্য উইকেটটা নেন শরীফুল ইসলাম।
সব মিলিয়ে সিলেট টেস্টের প্রায় অর্ধেক উইকেটই নিয়েছেন তাইজুল। তার শিকার ৯ উইকেট। যার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি, মোস্ট ভ্যালুয়েবল বাংলাদেশী ক্রিকেটার অফ দ্য ম্যাচ হিসেবে জিতেছেন ১ লাখ ১০ হাজার টাকার মোটরসাইকেল।
অন্যদিকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল জিতেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ম্যাচ মিলিয়ে ২৩২ রান আর দূর্দান্ত নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জেতানোয় মোস্ট ভ্যালুয়েবল বাংলাদেশী ক্রিকেটার অফ দ্য সিরিজ পুরস্কার জেতেন তিনি।
এদিকে সিলেট টেস্টে উইকেটের সামনে ও পেছনে- উভয় দিক থেকে দারুণ পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন লিটন দাস। উইকেটের পেছনে যেমন নিয়েছেন দারুণ কিছু ক্যাচ, ব্যাট হাতেও ছিলেন ম্যাচের সেরা।
প্রথম ইনিংসে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে প্রথম ইনিংসে লিটন খেলেন ১২৬ রানের ইনিংস। আর দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের সাথে দারুণ জুটি গড়েন। এবার খেলেন ৬৯ রানের আরেকটি কার্যকর ইনিংস।
এদিকে মিরপুর ও সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিলেন মুশফিকুর রহিম। সিরিজের সবচেয়ে বেশি রান (২৫৩) তার। উপহার স্বরূপ অভিজ্ঞ এই ব্যাটার জিতেছেন সিরিজ সেরার পুরস্কার।
মিরপুর টেস্টে ৭১ ও ২২ রানের দুটি ইনিংস খেলেন মুশফিক। সিলেটে ২৩ ও ১৩৭ রান করেন তিনি। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে চমৎকার সেঞ্চুরিতে তিনি দলকে নিয়ে যান চার শ’ রানের কাছে। যা বাংলাদেশকে জেতাতে সহায়তা করে।



