নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, এই প্রজন্ম প্রমাণ করে দিয়েছে, এ প্রজন্ম যখন জেগে ওঠে তখন মাসের পর মাস আর বছরের বছর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। তখন ওদের বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তই ছিল ফ্যাসিবাদীদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আমরা বিশ্বাস করি এই প্রজন্ম যথাযথভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট রেখেছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
সংসদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাগপাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় জীবনের প্রতিটি সঙ্কটে সবার আগে যার দরাজ কণ্ঠ শোনা যেত তিনি প্রিয় নেতা শফিউল আলম প্রধান। আমাদের আহ্বানের দাওয়াতে শামিল হয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার সেই বক্তব্যকে বিকৃত করে জামায়াতের নেতাদের সাথে তার বিরুদ্ধেও ধর্ম অবমাননার মামলা করা হয়েছিল। সেই মামলায় শফিউল আলম প্রধান আসামি হয়ে আদালতে উঠেছেন, জেলে গিয়েছেন, কষ্ট স্বীকার করেছেন; কিন্তু তিনি অন্যায়ের সাথে আপস করেননি।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, যে দিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে সেই দিনই নতুন করে আবার বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। সংসদ আমাদের জনগণের আকাক্সক্ষাকে উপলব্ধি, সম্মান করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এই ফ্যাসিবাদের কদম কদম যাত্রা থামিয়ে দেবো। আমরা এগোতে দেবো না। বাংলাদেশ যে সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে, আজকে এ রকম মানুষের বড় প্রয়োজন ছিল। যিনি জোর কদমে সামনে এসে বলবে জাতির সাথে যেটা করা হচ্ছে এটা অন্যায়।
জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান সংসদের প্রায় সবাই মজলুম। এর মধ্যে কেউ জেল খেটেছেন। কেউ ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে এসেছেন। আবার এর মধ্যে কেউ নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। এ রকম লোকদেরকে নিয়েই আমাদের বর্তমান সংসদ। এই সংসদ যদি মজলুম জনগণের দুঃখ না বেঝে তাহলে কোন দিন কোন সংসদ বুঝবে? এটি হবে চরম লজ্জা। ৫৪ বছরে দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, সেই ফ্যাসিবাদকে ২৪-এর বিপ্লবীরা ছুড়ে মেরেছিল বঙ্গোপসাগরের নর্দমায়। এখন সেই নর্দমা থেকে এটাকে তুলে আনতে চায় কারা মনে রাখা দরকার।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, মদ জায়গায় থাকবে আর শুধু বোতল পরিবর্তন করা হবে এটা আমরা চাই না। আমাদের জেনজিরা একজনকে সরিয়ে আরেকজনকে বসানোর জন্য এখানে আন্দোলন করেনি। ব্যক্তির এবং লিঙ্গের পরিবর্তন করার জন্যই যুদ্ধ করেনি। তারা লড়াই করেছে যে বন্দোবস্ত এই জাতিকে ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে পিষ্ট করেছিল সেই বন্দোবস্ত পরিবর্তনের জন্য। আমাদের লড়াই তাই।
তিনি বলেন, ন্যায় এবং ইনসাফের ভিত্তিতে একটা দেশ এবং জাতি গঠন করতে হলে একটা দলের নিজের ভেতরে আগে ন্যায় ইনসাফ এবং গণতন্ত্রের চর্চা হতে হবে। যারা নিজের দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা করতে পারে না, যাদের নিজেদের নেতাকর্মীদের হাতে নিজেদের নেতাকর্মীরাই নিরাপদ নয় তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তারা জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, কেয়ারটেকার সরকার সহজে আসেনি। ওই রকমই আমাদের আনা বিল ফেলে দেয়া হয়েছিল। আমরা চেয়েছিলাম সংসদে প্রতিকার, আমাদেরকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হলো। আমরা জনগণকে নিয়েই দাবি আদায় করব। সংসদের ভেতরে ইতিবাচক গঠনমূলক বিতর্কের অবসান চাই না। জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন হোক। সংসদ আমাদের আকাক্সক্ষাকে উপলব্ধি করতে সম্মান করতে ব্যর্থ হয়েছে।
জাগপার সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবীর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) হাসিনুর রহমান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।



