গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৮ হাজার ফিলিস্তিনির লাশ!

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ইসরাইলি বাহিনীর দীর্ঘ দুই বছরব্যাপী বর্বরোচিত হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা বর্তমানে এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এসব ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনো অন্তত আট হাজার ফিলিস্তিনির লাশ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসঙ্ঘের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এবং তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। ইউএনডিপির ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাজায় বর্তমানে যে পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ রয়েছে তার মাত্র এক শতাংশের কম এখন পর্যন্ত অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানের এই ধীরগতি অব্যাহত থাকলে পুরো উপত্যকার ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে অন্তত সাত বছর সময় লেগে যেতে পারে। এ দিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া হাজার হাজার লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে তাদের স্বজনরা, যাতে অন্তত শেষবারের মতো তাদের দাফন করা যায়।

ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জাম এবং কারিগরি সক্ষমতার চরম ঘাটতির কারণে উদ্ধারকাজ ও ধ্বংসস্তূপ অপসারণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ইসরাইলের অব্যাহত অবরোধের ফলে এসব সরঞ্জাম উপত্যকায় প্রবেশ করতে পারছে না, যা মানবিক বিপর্যয়কে আরো ঘনীভূত করছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরাইলি বাহিনী বারবার তা লঙ্ঘন করছে।

গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরো দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্রে জানিয়েছে আনাদোলু। গত শনিবার পৃথক দুই ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। চিকিৎসা সূত্র জানায়, ২৬ বছর বয়সী মুহাম্মদ আল-সাইয়েদ সুলেইমান সেবিতানকে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার কাস্তাল টাওয়ারের কাছে একটি ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে তিনি মারা যান।

গাজার সীমানা সঙ্কুচিত করে নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে ইসরাইল

গাজা উপত্যকায় নতুন করে আঁকা তথাকথিত ‘অরেঞ্জ লাইন’ বাস্তব পরিস্থিতিকে বদলে দিচ্ছে, যেখানে যুদ্ধবিরতির শর্ত অতিক্রম করে ইসরাইলি বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ আরো বিস্তৃত করেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’ ছিল ইসরাইলি উপস্থিতির সীমা, যা গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা জুড়ে ছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই সীমারেখা ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলোর দাবি।

গাজায় ফের ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর আশঙ্কা

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও নতুন করে সঙ্ঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পুনরায় যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের দাবি, হামাস নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি মানছে না। এ প্রেক্ষাপটে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে, যদিও মধ্যস্থতাকারীদের সাথে আলোচনা এখনো চলছে।

সুমুদ ফ্লোটিলার ২ অধিকারকর্মীর রিমান্ড বাড়াল ইসরাইলি আদালত

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টাকালে আটক হওয়া ফ্লোটিলা বা নৌ-বহরের দুই বিদেশী অধিকারকর্মীর রিমান্ড আরো দুই দিন বৃদ্ধি করেছে ইসরাইলের একটি আদালত। আটককৃতরা হলেন- স্পেনের নাগরিক সাইফ আবু কেশেক এবং ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলা।

মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’-এর আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মিরিয়াম আজম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এই দুই কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল, তবে আদালত দুই দিনের সময় মঞ্জুর করেছে। তবে তাদের আইনজীবীরা এই পুরো প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ ও ত্রুটিপূর্ণ’ বলে দাবি করেছেন। মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি এবং তারা তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছেন। সংস্থাটি আরো জানায়, দুই স্বেচ্ছাসেবককে আশকেলনের শিকমা কারাগারে একাকী অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং তারা আটক ও দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছেন। উল্লেখ্য, গাজার ওপর দীর্ঘ কয়েক দশকের ইসরাইলি অবরোধ ভাঙতে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ সহায়তা নিয়ে ফ্রান্স, স্পেন এবং ইতালি থেকে ৫০টিরও বেশি নৌযান নিয়ে এই ফ্লোটিলা যাত্রা শুরু করেছিল। গত বৃহস্পতিবার গ্রিসের উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি বাহিনী নৌযানগুলোকে বাধা দেয়। ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, তারা ১৭৫ জন অধিকারকর্মীকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে এই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরাইলে নিয়ে যাওয়া হয়।