নিজস্ব প্রতিবেদক
শুরুতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা হলেও পরে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) ২০২৬-২৮ সেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকালে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবার সহযোগিতায় ক্যামেরা বসানো হলে নির্বাচন শুরু হয়। গতকাল শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি বিকেল ঠিক সাড়ে ৪টায় শেষ হলেও রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোট গণনা চলছিল।
এবার নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য ১০টি বুথ ছিল। ভোটার ছিল ৬৭৩ জন কিন্তু ভোট দিয়েছেন ৫৭০ জন। রিহ্যাবের মোট সদস্য এক হাজার ৮০০ জন। কিন্তু নানা কারণে সবাই ভোটার হতে পারেননি অথবা ভোটার হতে দেয়া হয়নি। রিহ্যাবের শেষ নির্বাচনটি হয়েছিল ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ এবং ওই নির্বাচনে মো: ওয়াহিদুজ্জামান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এটা ছাড়া বিগত আওয়ামী আমলে রিহ্যাবের আর কোনো নির্বাচন হয়নি বা হতে দেয়া হয়নি। তারা সিলেকশনের মাধ্যমে নেতৃত্ব ঠিক করে এই ব্যবসায়ী সংগঠনটি চালিয়েছেন।
গতকালের নির্বাচনে চারজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন। তারা হলেন গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. এমডি আলী আফজাল, ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্টের এমডি মোকাররম হোসেন, জাপান বাংলাদেশ গার্ডেন সিটির এমডি মো: ওয়াহিদুজ্জামান এবং নগর ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের এমডি ও সিইও মো: আবুল খায়ের সেলিম।
নির্বাচন সম্বন্ধে প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ড. আলী আফজাল গতকাল বিকেলে নয়া দিগন্তকে বলেন, শুরুতে বেশ অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলেও পরে সবার সহযোগিতায় নির্বাচনী পরিবেশ ফিরে আসে এবং আমরা সবাই অংশ নিচ্ছি। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনে জিতুক, আমরা তাদের স্বাগত জানাব। আমরা চেষ্টা করেছি নির্বাচনটি যেন সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
রিহ্যাবের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মো: ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে অনেক কিছুর শুরুটা ভালো হয় না। এখানে এমন কিছুই হতে যাচ্ছিল তবে সবার সহযোগিতায় তা সামলে নিয়েছে রিহ্যাব নির্বাচনী বোর্ড।
মো: রাজীউদ্দিন নামের একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী (তিনি সদস্য নন তবে নির্বাচন দেখতে এসেছেন) বলেন, একটি গ্রুপের মতলব ভালো ছিল না। নানা কায়দা-কৌশল করে রিহ্যাব দখলের চেষ্টা থেকে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তবে বেশির ভাগ রিহ্যাব সদস্যের ঐকান্তিক চেষ্টায় পরিবেশ ফিরে আসে। ওই পক্ষটাই চেয়েছিল আজ (শনিবার) নির্বাচন হলে একমার পর ফলাফল ঘোষণা করতে। পরে আদালতের নির্দেশে নির্বাচনের পর পরই ফলাফল দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয় নির্বাচন কমিশন।
সকাল ১০টার আগে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণেচ্ছুক প্রার্থী ও তাদের কর্মী বাহিনী হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে হাজির হয়। লিফলেট, কার্ডসহ নিজেদের প্রার্থীদের ছবিসহ টিশার্ট পরে ভোট চাওয়া শুরু করে তারা। দেখা যায় বর্ধিত সময়ের শেষ (সাড়ে ৪টা) পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে আসেন।



