জাপানের সাথে ইউনূস সরকারের করা প্রতিরক্ষা চুক্তি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপানে সাথে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তোলা এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বের শেষ সময়ে (৩ ফেব্রুয়ারি) জাপানের সাথে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তিটি করে।

এদিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার অষ্টম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে আগের সাতটি বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মন্ত্রিসভার এসব বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তের ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ ‘বাস্তবায়ন হয়েছে’ বলে জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিসভার গতকালের বৈঠকে ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ)’ প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত ‘ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরের প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।

বৈশ্বিক জোট আইবিসিএ ২০২৩ সালের এপ্রিলে যাত্রা শুরু করে। বিশ্বের প্রধান সাতটি বৃহৎ বিড়াল প্রজাতি-বাঘ, সিংহ, চিতা, তুষার চিতা, চিতাবাঘ, জাগুয়ার ও পুমা এবং এদের আবাসস্থল সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ জোট গঠিত হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে জাতিসঙ্ঘের ২৪টি সদস্য দেশ আইবিসিএর সদস্য। বাংলাদেশ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি হওয়ায় সুন্দরবনের ইকো সিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিবেচনায় এ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিতে ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম)’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদের খসড়া ‘জিসিএম ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’ অনুমোদন করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাবে বলা হয়, ২০১৮ সালে জাতিসঙ্ঘে জিসিএম গৃহীত হয়। বাংলাদেশসহ ১৬৪টি রাষ্ট্র এতে পক্ষভুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ে বৈশ্বিক সহযোগিতার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। জিসিএম ধারণার প্রবক্তাও বাংলাদেশ। এই ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) ২০২০ সালে বাংলাদেশকে ‘জিসিএম চ্যাম্পিয়ন’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।জিসিএমের উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে আইওএমের সহযোগিতায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদের জন্য খসড়া জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, যা মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।