শ্রীমঙ্গলে ১২ কোটি টাকার আনারস উৎপাদন

Printed Edition
শ্রীমঙ্গলে ১২ কোটি টাকার আনারস উৎপাদন
শ্রীমঙ্গলে ১২ কোটি টাকার আনারস উৎপাদন

এম এ রকিব শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল মানেই চা-বাগানের সবুজ সমারোহ। তবে জ্যৈষ্ঠ এলেই এই পাহাড়ি জনপদে যোগ হয় আরেকটি পরিচয়- রসালো আনারসের রাজ্য। টিলা ও পাহাড়ঘেরা বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন পেকে উঠেছে আনারস। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারে চলছে কেনাবেচার ব্যস্ততা, আর বাম্পার ফলনে স্বস্তি ফিরেছে চাষিদের মুখে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গলে ৪২৫ হেক্টর জমিতে হানিকুইন, জায়ান্ট কিউ ও এমডি-২ জাতের আনারসের চাষ হয়েছে। এসব বাগান থেকে উৎপাদিত হয়েছে ৬ হাজার ৮২১ মেট্রিকটন আনারস, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে হানিকুইন জাতের আনারস।

শ্রীমঙ্গলের মোহাজেরাবাদ, বালিশিরা, ডলুছড়া, সাতগাঁও, রাজঘাট, কালিঘাট ও মির্জাপুরসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপকভাবে আনারসের চাষ হয়। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি এবং দীর্ঘদিনের চাষাবাদের অভিজ্ঞতা এখানকার আনারসকে দিয়েছে স্বতন্ত্র স্বাদ ও খ্যাতি।

ষাটের দশক থেকে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আনারসের চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা এখান থেকে আনারস সংগ্রহ করছেন। শ্রীমঙ্গলের পুরনো ও নতুন বাজারে প্রতিদিন শত শত আনারসের বেচাকেনা হচ্ছে।

নবীগঞ্জ থেকে আনারস কিনতে আসা ব্যবসায়ী অসীম দাস জানান, তিনি ১১০টি আনারস চার হাজার ৪০০ টাকায় কিনেছেন। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে লাভ করতে হলে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। অন্য দিকে চাষি জসিম মিয়া জানান, একটি ঠেলাগাড়ি ভর্তি আনারস নিলামে তিন হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করলেও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য অংশ কেটে নেয়।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের ব্যবহার এবং কারিগরি সহায়তার ফলে উৎপাদন বেড়েছে। ফলে আনারস এখন শুধু মৌসুমি ফল নয়, স্থানীয় অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

তবে সাফল্যের এই গল্পের আড়ালে রয়েছে কিছু উদ্বেগও। চাষিদের অভিযোগ, বানর ও বন্য শূকরের মতো প্রাণীর উপদ্রবে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফল নষ্ট হয়। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কারণে এসব প্রাণীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হওয়ায় অনেক চাষি বিকল্প ফসল হিসেবে লেবু চাষের দিকেও ঝুঁকছেন।

তবুও চলতি মৌসুমের বাম্পার ফলন ও সন্তোষজনক বাজারদর শ্রীমঙ্গলের আনারসচাষিদের নতুন আশাবাদী করে তুলেছে। পাহাড়ঘেরা জনপদজুড়ে এখন আনারসের মিষ্টি সুবাসের সাথে মিশে আছে পরিশ্রম, সম্ভাবনা ও সফলতার গল্প।