অজুতে তাড়াহুড়ো : সালাত বিনষ্টের কারণ : আবরার নাঈম

Printed Edition
অজুতে তাড়াহুড়ো : সালাত বিনষ্টের কারণ : আবরার নাঈম
অজুতে তাড়াহুড়ো : সালাত বিনষ্টের কারণ : আবরার নাঈম

ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান হলো নামাজ। আর নামাজ শুদ্ধ হওয়ার প্রধান শর্তই হলো পবিত্রতা। অর্থাৎ অজু। অজু ছাড়া নামাজ শুদ্ধ হয় না। হজরত ইবনু উমার রা: থেকে বর্ণিত- রাসূল সা: বলেন, ‘পবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল হয় না। আর হারাম উপায়ে প্রাপ্ত মালের সাদকাও কবুল হয় না।’ (জামে তিরমিজি-১)

আল্লাহর ফরজ বিধান পালনে উদাসীনতা কাম্য নয়। কিন্তু বাস্তব সত্য এটাই যে, আমরা অধিকাংশ সময়ই পার্থিব কর্মব্যস্ততা সেরে সময়মতো মসজিদে উপস্থিত হতে পারি না। মসজিদে জামাত শেষ হয়, হচ্ছে এমন সময় তাড়াহুড়ো করে জামাতে হাজির হই। তাড়াহুড়ো করে কোনোমতে অজু সেরে জামাতে শরিক হই। এ তাড়াহুড়োর কারণে কোনো কোনো অঙ্গ শুকনোই থেকে যায় বা সম্পূর্ণ ধোয়া হয় না। বিশেষ করে পায়ের গোড়ালি। কারণ তা অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় শুষ্ক। ফলে অজু হয় অসম্পূর্ণ। অপূর্ণাঙ্গ। অপরিপূর্ণ অজু দিয়ে সালাত আদায়কারীদের জন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে কঠিন শাস্তি।

হজরত মুহাম্মদ ইবনু জিয়াদ রহ: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আবু হুরায়রা রা: আমাদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। লোকেরা সে সময় পাত্র থেকে অজু করছিল। তখন তাকে বলতে শুনেছি, তোমরা উত্তমরূপে অজু করো। কারণ আবুল কাসিম সা: বলেছেন, ‘পায়ের গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আজাব রয়েছে।’ (বুখারি-১৬৫)

সালাতের প্রতি যতœবান হওয়ার নির্দেশ। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘তোমরা সব সালাত এবং বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের প্রতি যতœবান হও এবং আল্লাহর সামনে স্থির হয়ে দাঁড়াও।’ (সূরা বাকারা-২৩৮) অন্যত্র ইরশাদ করেন- ‘নিশ্চয় সালাত মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ।’ (সূরা নিসা-১০৩) আমরা যদি উপরে উল্লিখিত আয়াতে বর্ণিত নির্দেশ মেনে যথাসময়ে সালাতে যেতাম। তা হলে অজুতে তাড়াহুড়ো করতে হতো না এবং অসম্পূর্ণ অজু নিয়ে নামাজও পড়তে হতো না। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ধীরস্বভাবে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে সালাত আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম আবু হানিফা র. গুলশান-ঢাকা