মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার প্রায় ছয় লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে গত দুই বছর ধরে হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি বিকল হয়ে পড়ে থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও চিকিৎসকরা। লোডশেডিং হলে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট কিংবা মোমবাতির আলোই এখন চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা। দ্রুত জেনারেটর মেরামত ও জনবল সঙ্কট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। ওয়ার্ডের দু-একটি চার্জার লাইট জ্বললেও ফ্যান বন্ধ থাকায় গরমে হাঁসফাঁস করেন রোগীরা। ধুম ইউনিয়নের রোগী শামসুল আলম ও ওচমানপুরের সাহেদা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, এত বড় সরকারি হাসপাতাল, কিন্তু বিদ্যুৎ গেলে মোমবাতি ছাড়া উপায় থাকে না। স্বেচ্ছাসেবী মেহেদী হাসান জানান, বিদ্যুৎহীন অবস্থায় অনেক সময় টর্চ জ্বেলে রোগীদের ইনজেকশন বা জরুরি প্রাথমিক সেবা দিতে হয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী সঙ্কটও প্রকট। ২১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৫৮ জন। এ ছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকসহ পুরো উপজেলায় ৮২টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
এ দিকে, মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর গড়ে ওঠায় জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ছয় লাখ মানুষের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল একেবারেই অপ্রতুল। যান্ত্রিক ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে হাসপাতালটিকে জরুরি ভিত্তিতে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা প্রয়োজন।
ইপিআই কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, জেনারেটর বিকল হওয়ার পাশাপাশি তেলের বাজেটও পর্যাপ্ত নয়। যে বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা দিয়ে বড়জোর দুই মাস জেনারেটর চালানো সম্ভব। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। জেনারেটরটি সচল করার চেষ্টা চলছে এবং শূন্যপদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।



