গাইবান্ধায় খাল খনন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

কাগজে-কলমে ৫৯ শ্রমিক, ভেকু মেশিন চলছে

Printed Edition
খাল খনন হচ্ছে ভেকু দিয়ে। শ্রমিক তালিকা (ডানে) : নয়া দিগন্ত
খাল খনন হচ্ছে ভেকু দিয়ে। শ্রমিক তালিকা (ডানে) : নয়া দিগন্ত

সোহাগ খন্দকার সাঘাটা (গাইবান্ধা)

গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র ও বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নেয়া খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্পে গাইবান্ধার সাঘাটায় শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু (এস্কেভেটর) মেশিন ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নীতিমালা উপেক্ষা করে মেশিনে কাজ করানো হচ্ছে। এতে শ্রমিকেরা কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সম্প্রতি উপজেলার পদুমশহর ইউনিয়নের দাতিয়া খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দু’টি ভেকু মেশিন দিয়ে খালের মাটি কাটা হচ্ছে। প্রকল্পের সরকারি নথিতে ৫৯ জন শ্রমিকের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও মাঠে কোনো শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে মেশিনে কাজ চলছে এবং এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কাজ শেষ হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাল খনন, পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রমের জন্য সারা দেশে ৪২০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়। এর আওতায় ৬৩ জেলার ২৪৯ উপজেলায় ৩৭৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। গাইবান্ধার সাত উপজেলায় অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে সাঘাটায় রয়েছে দুটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন জাহিদ নামের এক ব্যক্তি, যিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের কর্মকর্তা নন। শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন বিষয়ও তার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্প এলাকায় কাজের তদারকিতে থাকা মুন্না মিয়া ও মাহাবুর রহমান বলেন, তারা তিনজন প্রতিদিন ৮০০ টাকা করে মজুরিতে কাজ করছেন। সরকারি তালিকাভুক্ত কোনো শ্রমিককে তারা দেখেননি। খালের পাশের শ্মশানঘাটের পাহারাদার সুবেন্দ্র বলেন, কয়েক দিন ধরে মেশিনে কাজ চলছে। শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা যায়নি।

স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী শামীম মিয়া বলেন, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সেখানে মেশিন ব্যবহার করা হলে উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। কৃষিশ্রমিক মকবুল হোসেন ও দিনমজুর কফিল উদ্দিনও অভিযোগ করেন, স্থানীয় শ্রমিকদের কাজ দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের সেই সুযোগ হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রকল্পের সদস্যসচিব ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশার আলী বলেন, শ্রমিকদের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই প্রাথমিকভাবে কিছু কাজ মেশিনে করা হচ্ছে। পরে শ্রমিকদের দিয়েই বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।

সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মৌসুমি বেগম বলেন, শ্রমিকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। ভেকু মেশিন ব্যবহারের বিষয়টি তার জানা নেই। অন্য দিকে প্রকল্পের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, সদস্য হয়েও তিনি কাজ শুরুর বিষয়ে অবগত নন।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজল হক বলেন, শ্রমিকদের তালিকা প্রায় প্রস্তুত। শিগগিরই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। ভেকু মেশিনে কাজের বিষয়টি তার জানা নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো: মেহেদী হাসান বলেন, খালের তলদেশ সমান করার জন্য প্রাথমিকভাবে ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। পরে শ্রমিকদের মাধ্যমে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবির বলেন, প্রকল্পটি পিআইও কার্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।