গ্রামের পিচঢালা যে রাস্তাটা নবগঙ্গা নদীর পূর্ব পাশ দিয়ে সোজা নহাটা বাজারে চলে গেছে, সেই রাস্তা থেকে এক ফালি রাস্তা পশ্চিম দিকে নদীর ধারের বাজারে গিয়ে মিশেছে। এই দুই রাস্তাসংলগ্ন রাজাপুর হাইস্কুল। স্কুলটিতে রয়েছে বড় ফুটবল মাঠ। মাঠের মাঝখানে পোঁতা দুটো বাঁশের মাথায় বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছে। এই বাতির নিচে চার পাঁচটি মোটরসাইকেল পার্ক করা আর গোটা দশেক প্লাস্টিকের চেয়ার ছড়ানো ছিটানো। কয়েকজন যুবক মিলে দুটো বড় সাইজের গরু আনল সেখানে। চেয়ারে বসা ষাটোর্ধ্ব একজন লোক যুবকদের জিজ্ঞেস করলেন, কিরে হুজুর কই? যুবকদের মাঝ থেকে একজন জবাব দিলো, ‘নামাজ শেষ করে আসতিছে।’
স্কুলের বারান্দায় রাখা সাউন্ডবক্স থেকে ভেসে আসছে কবি নজরুলের ঈদের গান- ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। চেয়ারে বসা লোকটা হাঁটুর ওপর হাত রেখে আঙুল নেড়ে নেড়ে সেই গানের সাথে তাল মেলাচ্ছেন।
‘পেত্তেক বছর এই দিন বিয়াদ্দপ ছাওয়াল পাল এই জাগা হিন্দি গান বাজায়ে আড্ডা মারে, আজকে দেকতিছি নতুন গান।’ রাতে লাইট জ্বালিয়ে এমন আয়োজন দেখে বাজার ফেরত উৎসুক লোকেরা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে গেছে। তাদের মধ্যে একজন এ কথা বলল। তা শুনে অন্যজন জবাব দিলো- ‘মোতালেব মিয়া আইছে। ওই যে চিয়ারে বসা।’
‘তা এত বছর পর মোতালেব মিয়া গিরামে, কি মনে করে। ভোটে দাঁড়াবি নাকি?’
‘তা কতি পারিনে, পয়সা থায়লি মানসির কত আউস দাবড়ায়। তার তো পয়সার অভাব নেই।’
মোতালেব মিয়া ঢাকায় থাকেন। ডজনখানেক গার্মেন্টস ফ্যাক্টারির মালিক। দেশের অন্য ১০ জন টাকাওয়ালার মতো একসময় দু’হাতে টাকা উড়িয়ে দেশ-বিদেশে ফুর্তি করে বেড়িয়েছেন। তার জীবনের অন্ধকার দিকটা চাপা রাখতে গ্রামের লোক তো দূরে থাক, আপনজনকেও কাছে ভিড়তে দেন না। করোনাকালে পুরো পরিবার যখন আক্রান্ত হলো, তারপর থেকে তার মাঝে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অন্য গার্মেন্টস কর্মীরা ১০ হাজার টাকা বেতন পেলেও তার কারখানায় ১৫ হাজারের নিচে কারো বেতন নেই। পাঁচ হাজার শ্রমিকের ফ্রি চিকিৎসার জন্য একটি হসপিটাল দিয়েছেন। যেখানে তিনিও চিকিৎসা নেন। বেতন বোনাস ছুটি নিয়ে কোনো অনিয়ম নেই, তাই কোনো আন্দোলনও নেই।
এখন মাঝরাত। হাজার কানেক লোক বসতির এই ছোট্ট গ্রামের সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কিছু ভ্যানচালক আর শ্রমজীবী মানুষ ঈদের সেমাই চিনি জোগাড় করে একে একে বাড়ি ফিরছে। ওদিকে স্কুলের মাঠে গরুর গোশত কাটার হিড়িক পড়ে গেছে। মোতালেব মিয়া চারদিকে ঘুরে ফিরে দেখছেন আর তাগদা দিচ্ছেন, ‘জোরে হাত চালা, সময় বেশি নেই।’
এরই মাঝে তিনটি মেয়ে মাঠে প্রবেশ করল। একজনের হাতে বড় চায়ের ফ্লাস্ক, অন্যজনের হাতে বড় গামলা আর বাকি জনের হাতে চামচ বাটি। তাদের দেখে মোতালেব মিয়া বললেন, ‘কিরে মা তোরাও চলে আইছিস। ভালো জিনিসই আনিছিস। চা না খালি ওগের হাত চলিতেছে না।’ এরপর তিনি উপস্থিত সবার মাঝে মেয়েদের পরিচয় তুলে ধরলেন। ফ্লাস্কওয়ালিকে দেখিয়ে বললেন, ‘এ হচ্ছে আমার মেয়ে, ডরথি। ও বুয়েটে পড়ে। ওরে দিয়ে আমি এই স্কুলি মেয়েগের জন্যি একটি আধুনিক টয়লেট বানাব। স্কুলি মেয়েগের জন্য আলাদা টয়লেট না থাকায় ওরা সারাদিন পিসসাপ চেপে রাখে। তাতে ওগের শরীরী নানা সমস্যা হয়।’
গোশত কাটা যুবকদের মাঝে একজন নি¤œস্বরে টিটকারি করে বলল, ‘পায়খানার ইঞ্জিনিয়ার!’
অবশ্য মোতালেব মিয়ার কানে সে কথা প্রবেশ করল না। এরপর তিনি গামলাওয়ালিকে পরিচয় করালেন, ‘এ হচ্ছে আমার ভাতিজি, শুক্লা। ওর ডাক্তারি পড়া শেষের দিক। ও প্রতি মাসে গিরামে একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প করবি।’
শেষের জনের পরিচয় দিলেন, ‘এও আমার আরেক ভায়ের মেয়ে, কেয়া। ও ঢাকা ভার্সিটির ইংরেজিতে পড়ে। মাঝে মাঝে গিরামে আসে, বাচ্চাগের ইরেজি শিখাবি।’
মেয়েদের আনা পাত্রগুলো ওদের কাছ থেকে নিয়ে নিচে নামিয়ে রেখে মোতালেব মিয়া বললেন, ‘এসব ওরা নিজিরাই নিয়ে খাতি পারবেনে। চলো, আরো কাজ আছে। সেসব গুছাই।’ এই বলে তিনি মেয়েদের নিয়ে স্কুলের বারান্দায় চলে গেলেন। সেখান গিয়ে তিনি থমকে দাঁড়ালেন। চোখ তার চড়কগাছ। চিৎকার করে উঠলেন, ‘এ তুহিন, এ শিশির, এই দিক আয়।’
দু’জন যুবক তার ডাকে সাড়া দিয়ে দৌড়ে স্কুলের বারান্দায় গেল। মোতালেব মিয়া বললেন, ‘টেবিলির পার রাখ সে প্যাকেট কই?’
মোতালেব মিয়ার ড্রাইভার রুবেলকে সেগুলো দেখতে বলেছিলেন। সে বেঞ্চের উপর শুয়ে নাক ডাকছে। ধমক দিয়ে তিনি রুবেলকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বললেন, তোরে দিয়ে গেলাম প্যাকেটগুলো দেখে রাকতি, আর তুই ঘুমাচ্ছিস?
রুবেলসহ কয়েকজন যুবক মোবাইল ফোনের লাইট জ্বেলে স্কুলের পেছনে বাগানের ভেতর তল্লাশিতে বের হলো। কিছুক্ষণ পর তাদের নজর পড়ল, পুকুরের পাড় দিয়ে বস্তা কাঁধে দু’জন পালিয়ে যাচ্ছে। ‘এই দাড়া’ বলে অনুসন্ধানী যুবক দল তাদের ধাওয়া করল। একজন বস্তা ফেলে পালাল। অন্যজন গাছের ঝুলে থাকা ডালে বাড়ি খেয়ে পুকুরে পড়ে গেল।
যুবকদের হুমকিতে সে পুকুর থেকে উপরে উঠে এলে তাকে ধরে এনে স্কুলের বারান্দায় খুঁটির সাথে পিছমোড়া করে বাঁধা হলো। সে এ গ্রামেরই লোক, রবজেল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেল, এ কাজ সে তার নিজের জন্য করেনি। তবে কার জন্য করেছে, ভয়ে তার নাম বলতে চায় না। কিছু উত্তম মধ্যম দেয়ার পর সে স্বীকার করল, কে তাকে পাঠিয়েছে।
হর্ন বাজাতে বাজাতে তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়জন লোক স্কুলমাঠে ঢুকে পড়ল। তাদের মধ্যে মাঝ বয়সী বেঢপ চেহরার একজন মোতালেব মিয়াকে সালাম দিয়ে বলল ‘চাচা, এ জাগা কোনো সমস্যা হইছে নাকি?’
মোতালেব মিয়া উত্তর দিলেন,
‘সমস্যা কিছু না (রবজেলকে দেখিয়ে) ওই ছেমড়াডা দানের জিনিসির একটি বস্তা নিয়ে পলায় যাচ্ছিল।’
মোতালেব মিয়ার কথা শেষ না হতেই লোকটা রবজেলকে মারতে উদ্যত হয়ে বলল, ‘এই হারামজাদা, তোগের খাসলইত আর বদলাবিনে। সরকারের এত যে চাইল গম আসে, সবই তো তোগের দিয়ে দি। তাও তোগের ভরে না।’
লোকটার কথা শুনে রবজেল ফিক করে হেসে দিলো। তার হাসি দেখে আগত ব্যক্তি বলল, ‘দেখিছেন চাচা, চোরের হায়া লজ্জা বলে কিছু আছে? দাঁত ক্যালায় কিরম হাসতিছে, দ্যাখেন।’
মোতালেব মিয়া বললেন, ‘এ জাগায় চুরি হইছে, তুমি জানলে কিরম?’
‘জানব না, আমি এলাকার চিয়ারমেন। কনে কি হচ্ছে- সবাই তো আমার খিয়াল রাখা লাগে।’
‘ও তালি, তুমিই সেই চেয়ারম্যান?’
রবজেল বলল, ‘হয়, উনার কথাই তো কলাম।’
চেয়ারম্যানের সাথে আসা একজন বলল, ‘চিয়ারমেন সাব ওরে থানায় চালান দেন। পুলিশির প্যাদানি খালি ওর সাগরেতগের খোঁজ পাওয়া যাবেনে।’
মোতালেব মিয়া বললেন, ‘সে খোঁজ আমরা পাইছি।’ তুমাগের থানা পুলিশ করা লাগবিনেনে। চোরার রাজ্যে সাধু কিডা?
চেয়ারম্যান বলল, ‘ঠিকই কইছেন, চাচা। কিডা যেন কইছল- আমরা হলাম চোরের খনি। চোরের খনিতি সোনা পাবেন কনে? যদিও পান তার মদ্যিও খাইদ’।
‘অত কথায় কাজ নেই। ওর সাতে যিডা ছিল সেইডেরে পাঠায় দিও।’
‘তারে পাবো কনে?’
‘ক্যা, তুমি না কলে, সবার খবরই রাখো?’
‘তা চিষ্টা করলি ওর সাগরেদডারও বাইর করে ফেলতি পারবানে। আপনারা টাউনির মানুষ কি জন্যি যে গিরামে এসব কত্তি আসেন। আমাগের কলি আমরাই তো এসব করে দিতি পাত্তাম।’
চেয়ারম্যান আর মোতালেব মিয়ার কথার মাঝে এক যুবক এসে বলল, ‘চাচা গোশত রেডি।’ মোতালেব মিয়া সেই যুবকের সাথে চললেন আর চেয়ারম্যান আড়চোখে রবজেলের দিকে তাকাতে তাকাতে বিদায় নিলো।
গোশতের প্যাকেট, সাথে মেয়েগুলোর রেডি করা সেমাই চিনি আর কাপড়ের প্যাকেট-মোট তিন প্যাকেট একত্রে বড় আরেকটি প্যাকেটে ভরে ভ্যানে তোলা হচ্ছে। রবজেলকে লক্ষ্য করে মোতালেব মিয়া বললেন, ‘খালি খালি ওরে বাইন্দে রাখিচিস ক্যা? ছাড়ে দে, কাজে লাগা।’ পাশের অন্ধকার থেকে কথা শোনা গেল, ‘চাচা আমিউ কাজ করতি চাই। আমি ছলেমান, রবজেলের সাথে ছিলাম।’
মোতালেব মিয়া বললেন, ‘ভয় নেই, সামনে আয়।’
ছলেমান মোতালেব মিয়ার সামনে এলে, তিনি মৃদু হেসে বললেন, ‘চেয়ারম্যান পাঠাইছে তোরে?’
ছলেমান লজ্জায় মাথা নিচু করে থাকল। মোতালেব মিয়া বললেন, ‘যা ওর হাতের বান্দন খুলে দিয়ে কাজে লাগ।’
মোতালেব মিয়ার বন্ধু দিপঙ্কর ঘোষ এই স্কুলের হেড মাস্টার। তিনি তাকে কখনো দীপু মাস্টার বলে ডাকেন। বাড়িতে আসার আগে দীপু মাস্টারকে একটি কাজ দিয়েছিলেন মোতালেব মিয়া। কাজটি হলো- গ্রামের সব মানুষের ধর্ম, কর্ম, বয়স, লিঙ্গ, পেশা ইত্যাদি তথ্যসমৃদ্ধ একটি রিপোর্ট তৈরি করা। মাস্টার স্কুলের দু’জন ছাত্রের সহযোগিতা নিয়ে সেই রিপোর্টটি তৈরি করে মোতালেব মিয়ার কাছে আগেই পাঠিয়েছিলেন। লাইটের নিচে একটি চেয়ারে বসে মোতালেব মিয়া সেই রিপোর্টের ওপর চোখ বুলাচ্ছেন। মাস্টারের রিপোর্ট অনুসারে গ্রামের অর্ধেক লোকের এই ঈদে ভালো খাবার ও নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই। ঈদের দিনে গ্রামের মানুষের সেই অভাব পূরণের জন্য মোতালেব মিয়ার আজকের এই আয়োজন। ঘড়ির ঘণ্টার কাঁটা চার নম্বর দাগ পার হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আজান দিলে লোকজন মসজিদের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়বে। তার আগেই গোশত ও প্যাকেটগুলো নির্দিষ্ট বাড়িতে পৌঁছাতে হবে। মোতালেব মিয়া রিপোর্টের ওপর থেকে চোখ উঠিয়ে যুবকদের উদ্দেশে বললেন, ‘মোট ১৫০ প্যাকেট হবে, গুনিছিস ঠিকমতো।’
একজন উত্তর দিলো ‘জি চাচা’।
‘গোশত কি বাঁচিছে?’
‘আইধ মন মতো বাঁচিছে’।
‘যাক ওই দিয়ে ঈদ পুনর্মিলনীর খাওয়া হয়ে যাবেনে। সাথে কেজি পাঁচেক খাসির গোশত নিস হিন্দুগের জন্যি।’
মোতালেব মিয়া তার জাকাত ও দানের টাকা আগের মতো আর শাড়ি লুঙ্গি বিলিয়ে শেষ করতে চান না। এখন পরিকল্পিতভাবে গ্রামের অভাবী মানুষের দারিদ্র্য স্থায়ীভাবে দূর করতে চান। সেই উদ্দেশ্যে সবার মতামত নেয়ার জন্য আগামীকালের ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন।
মোতালেব মিয়া চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘যা তোরা বেরিয়ে পড়, বেলা ওঠার আগেই বিলি করে শেষ করবি। কেউ জিজ্ঞেস করলি, আমার নাম বলবিনে। বলবি, আল্লাহর তরফেরতে আইছে।’
যুবকেরা তিনটা ভ্যানে প্যাকেটগুলো উঠিয়ে গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়ল।
কয়েক দিন প্রচণ্ড গরমে হাড্ডি সিদ্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। তাই মোতালেব মিয়া বাড়ির উঠানে সামিয়ানা টানিয়েছেন, তার নিচে মাটিতে পেতেছেন খেজুর পাতার পাটি। ঈদের নামাজ পড়ে বাড়ির বারান্দায় বসে তিনি সেমাই খাচ্ছেন, এমন সময় দলে দলে গ্রামের মানুষ এসে জমায়েত হচ্ছে তার বাড়িতে। গ্রামের লোকরা জানে প্যাকেটগুলো আল্লাহর তরফ থেকে এলেও তার হিল্লা মোতালেব মিয়া। কেউ গোশত খেয়ে দাত খিলাল করতে করতে, কেউ সেমাইয়ের ঢেঁকুর তুলতে তুলতে, নতুন জামা কাপড় পরিধান করে জোয়ান, বুড়ো, নারী, শিশু দলে দলে সবাই হাসিমুখে মোতালেব মিয়ার বাড়িতে আসছে। অন্য উৎসবের মতো নির্দিষ্ট রঙের কোনো পোশাক নয়; বরং নানা রঙবেরঙের বাহারি পোশাক পরা লোকের সমাগমে একসময় বাড়ির উঠানটা লোকারণ্য হয়ে উঠল। মনে হচ্ছে, এ যেন নানা রঙের একটি ফুলের বাগান। সেই সাথে এতগুলো মানুষের সেমাইয়ের বাটি-চামুচের টুংটাং আওয়াজ নতুন ব্যঞ্জনা দিচ্ছে। সেমাইয়ের বাটি হাতে এক বৃদ্ধ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘মিয়া সাহেব, আইজ আমাগের গায়ে সবার নতুন জামা; কিন্তু আপনার গারডা তো পুরনো মনে হচ্ছে।’
মোতালেব মিয়া হেসে উত্তর দিলেন, ‘আপনারা তো আনেক বছর নতুন কাপড় পরেন না, আমি তো পেত্তেক বছরই পরি। একটা বছর না হয় পুরানডাই পরলাম, দেখি কিরকম লাগে।’
লোকটা লা-জবাব হয়ে বসে পড়ে হাতে থাকা সেমাইয়ের বাটির উপর মনোনিবেশ করল। মোতালেব মিয়া তার শখের কলের গানের হ্যান্ডেল বারকয়েক ঘুরিয়ে একটি রেকর্ড চালিয়ে দিলেন। সেখান থেকে ভেসে এলো-
‘নাই হলো মা বসন-ভূষণ এই ঈদে আমার,
ভুল্লাহ আমার মাথার মুকুট, রাসূল গলার হার।’



