নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, আগামী দেড় বছরের মধ্যে বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানি থেকে বেরিয়ে আসবে। একইভাবে আগামী তিন বছরের মধ্যে আদা ও রসুন উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংকের কৃষি বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ খাতে সরকারের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থ কতটা কার্যকরভাবে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে, সে বিষয়ে গবেষণা ও মূল্যায়নকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখে। তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও সুপারিশ নীতি নির্ধারণে কার্যকর সহায়তা দেয়।
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। কৃষিকে আরো উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই করতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পাটবীজ, পেঁয়াজ বীজ ও আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাটির অম্লতা হ্রাস এবং সারের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রফতানি বাড়িয়ে কৃষিকে আরো বাণিজ্যিক ও রফতানিমুখী খাতে রূপান্তর করা হবে। উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন, আধুনিক প্যাকিং হাউস, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, কোয়ারেন্টাইন সুবিধা এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক, সানেম, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে কৃষিমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটির মোড়ক উন্মোচন করেন।



