‘তারুণ্যের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার

জিডিপির ৬% শিক্ষায় স্বাস্থ্যে ৫% বরাদ্দের দাবি ছাত্রশিবিরের

Printed Edition
জাতীয় প্রেস ক্লাবে ছাত্রশিবিরের তারুণ্যের বাজেট ভাবনা অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতারাসহ অতিথিরা :  নয়া দিগন্ত
জাতীয় প্রেস ক্লাবে ছাত্রশিবিরের তারুণ্যের বাজেট ভাবনা অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতারাসহ অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ন্যূনতম ৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সাথে জুলাই বিপ্লবে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের পরিবারের পুনর্বাসনে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দেয়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংগঠনের উদ্যোগে ‘তারুণ্যের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব দাবি তোলা হয়। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের (সিএসপিএস) নির্বাহী পরিচালক ড. মো: মিজানুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন, ইউনেস্কোর গাইডলাইন অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত ও সরকারি হাসপাতালের আধুনিকায়নে স্বাস্থ্য খাতে ন্যূনতম ৫ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ ৯০ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করছে। এস আলম বা বেক্সিমকোর মতো গোষ্ঠী ব্যাংক লুট করে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে, অথচ সাধারণ মানুষকে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। তিনি সরকারকে লুটপাট বন্ধ করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অর্থ কাঠামো গড়ার আহ্বান জানান। জুলাই বিপ্লবে তরুণদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, বাজেট ও রাষ্ট্রপরিচালনায় তরুণদের ভাবনাকে উপেক্ষা করা হলে সরকার নিজেদের অস্তিত্বই সঙ্কটে ফেলবে।

মূল প্রবন্ধে ড. মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কঠিন রূপান্তরকাল পার করছে। ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশে নেমে আসা এবং যুব বেকারত্ব ১১.৫ শতাংশে পৌঁছানো দেশের ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী প্রশিক্ষণ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সুদমুক্ত অর্থায়ন ও জাকাত-ওয়াকফভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো জোরদারের আহ্বান জানান।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, রাষ্ট্রীয় ঋণ প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং প্রতি বছর আরো তিন লাখ কোটি টাকা যোগ হচ্ছে। ব্যাংক খাতে সাড়ে ১৮ লাখ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকাই খেলাপি। তিনি তরুণদের মেধা পাচার রোধে কার্যকর কর্মসংস্থান পরিকল্পনার আহ্বান জানান।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যেই কমে আসবে। তাই শুধু বরাদ্দ নয়, অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকার মাদক সেবন হচ্ছে এবং তরুণ বেকারত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সাবেক সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা এবং জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের দাবি জানান। সেমিনারে ঘোষণা দেয়া হয়, তরুণদের বাজেট প্রস্তাবনা শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পেশ করা হবে।