অর্থনীতির নতুন মডেল নিয়ে কাজ করছে সরকার : উপদেষ্টা তিতুমীর

Printed Edition
সিরডাপ মিলনায়তনে চরচা আয়োজিত বাজেট নিয়ে আলোচনা সভায় অতিথিরা : নয়া দিগন্ত
সিরডাপ মিলনায়তনে চরচা আয়োজিত বাজেট নিয়ে আলোচনা সভায় অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার নতুন মডেল নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেছেন, “বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা।

“সরকারের দর্শন হলো ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।”

শনিবার এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে অনলাইন সংবাদমাধ্যম চরচা ডটকম।

উপদেষ্টা তিতুমীর বিনিয়োগ বাড়াতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দেশীয় ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনর্গঠন প্যাকেজ নিয়ে কাজ করছে।” অনুষ্ঠানে এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম মঞ্জুর বলেন, “বেসরকারি খাতের বিকাশ ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কর কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।”বিদ্যমান ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট কর কমিয়ে ভিয়েতনামের মতো ২০ শতাংশ করার দাবি জানান তিনি।

নাসিম মঞ্জুর বলেন, “বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নীতির অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে। তাই অন্তত তিন বছরের জন্য স্থিতিশীল কর নীতি নিশ্চিত করা জরুরি।”

আলোচনায় গবেষক ও অধিকারকর্মী মাহা মির্জা বলেন, “দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি হওয়া সত্ত্বেও কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি।” তিনি কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ বর্তমান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানান।

মাহা মির্জা বলেন, “২০২৬ সালেও কৃষকদের ধান শুকানোর জন্য রোদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

কৃষকের দোরগোড়ায় সুলভ মূল্যে ক্রপ ড্রায়ার, কম্বাইন্ড হারভেস্টারসহ আধুনিক কৃষিযন্ত্র পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কৃষিপণ্য ক্রয়কেন্দ্র বাড়ানো, সারের গুদাম নির্মাণ এবং দুধ ও অন্যান্য পচনশীল কৃষিপণ্যের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ও প্রিজারভেশন সেন্টার স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চরচা সম্পাদক সোহরাব হাসানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ, সাবেক অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, আইসিএমএবির সভাপতি কাউসার আলম, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন একেএম ওয়ারেসুল করিম।