কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সঙ্কটে চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাড়ে চার লাখ মানুষের এই হাসপাতালে চালক না থাকায় ফুলবাগানের মালি মিলন হোসেন চালাচ্ছেন অ্যাম্বুলেন্স। অন্য দিকে ভেষজ বাগানের পরিচর্যাকারী মাহবুবার রহমান পালন করছেন স্টোরকিপারের দায়িত্ব। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদসহ প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণীর মোট ৮৩টি পদ শূন্য রয়েছে। ৪৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২১ জন এবং ১১ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মধ্যে আছেন মাত্র পাঁচজন।
হাসপাতালের ভেতরে যেমন ঝোপঝাড়ে জরাজীর্ণ পরিবেশ, তেমনি উপজেলার বলরামপুর ও বারবাজার উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো ডাক্তার নেই। বলরামপুরের চিকিৎসক মুরাদ আলী ছয় মাস ধরে প্রেষণে কুষ্টিয়ায় আছেন। এ ছাড়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসারদের (সেকমো) তিনজন, ডা: ইয়াসমিন আরা, ডা: জয়নাল আবেদিন ও ডা: মনিরুজ্জামান প্রেষণের (ডেপুটেশন) অজুহাতে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। কর্মস্থলে না এসেই তারা প্রতি মাসে ই-মেইলের মাধ্যমে বেতন তুলে নিচ্ছেন। ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকেও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ এবং ৩৯ জন স্বাস্থ্য সহকারীর বিপরীতে আছেন মাত্র ১৩ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা: অরুণ কুমার দাস জানান, সঙ্কটগুলোর বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। উপজেলা ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, তিনি সমস্যাগুলো অবগত আছেন এবং সিভিল সার্জনের সাথে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেবেন।
ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডা: মনিরুজ্জামান মালি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দীর্ঘ দিন নতুন নিয়োগ না হওয়ায় এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে। প্রেষণে বাইরে থাকা ডাক্তারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি মাওলানা আবু তালিব জানান, হাসপাতালের উন্নয়নে এটিকে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিষয়ে সংসদে কথা বলব।



