নাঙ্গলকোটে স্থানীয় পশুতেই চাহিদা পূরণের আশা

Printed Edition
নাঙ্গলকোটে কোরবানি উপলক্ষে খামারিদের প্রস্তুতি : নয়া দিগন্ত
নাঙ্গলকোটে কোরবানি উপলক্ষে খামারিদের প্রস্তুতি : নয়া দিগন্ত

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুত ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য মতে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই এ বছর কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় ৯২টি সক্রিয় খামার ও ৬২৮টি পারিবারিক খামারে কোরবানিযোগ্য পশু পালন করা হচ্ছে। চলতি বছরে উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৩৫৮টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু ১৪ হাজার ৫০২টি, মহিষ ৩৫৯টি এবং ছাগল দুই হাজার ৩৪৯টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ১৮৫টি পশু। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশুতেই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু পালন নিশ্চিত করতে খামারিদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, চিকিৎসাসেবা ও মনিটরিং করা হচ্ছে। হরমোন, স্টেরয়েড ও ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা মানতে খামারিদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে পশু ক্রয়-বিক্রয় সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন ৩১টি অস্থায়ী পশুর হাট নির্ধারণ করেছে। এছাড়া পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জরুরি চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য তিনটি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম মাঠে দায়িত্ব পালন করবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার খামারগুলোতে এরই মধ্যে অগ্রিম পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। অনেক ক্রেতা সরাসরি খামার থেকে পছন্দের গরু কিনে রাখছেন। খামারিরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তারা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেপারিরা এলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দামও ভালো পাওয়া যাবে।

উপজেলার অন্যতম বড় খামার সাতবাড়িয়া অ্যাগ্রো খামারে ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, দেশী ক্রস ও সিন্ধি ক্রস জাতের ৪৫টি গরু এবং ১৩টি মহিষ রয়েছে। খামারের ম্যানেজার ফিরোজ জানান, খামারে সর্বোচ্চ সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের গরু রয়েছে। এছাড়া এক লাখ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যেও বেশ কিছু গরু রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত থেকে গরু না এলে স্থানীয় খামারিরা ভালো লাভের আশা করছেন।

মক্রবপুর ইউনিয়নের মাইরাগাঁও তান্না অ্যাগ্রো ফার্মেও রয়েছে প্রায় ৮০টি বিক্রয় উপযোগী গরু। ফার্মের পরিচালক আবদুল কাইয়ুম রকি জানান, ঘাস, খড়, ভুসি ও বিভিন্ন ফিডের মাধ্যমে গরুগুলো মোটাতাজা করা হয়েছে। তার ফার্মে এক লাখ থেকে চার লাখ টাকা মূল্যের গরু রয়েছে। ঈদকে ঘিরে তিনি ভালো বিক্রির আশা করছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইমরুল হাসান রাসেল বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা, স্বাস্থ্যসেবা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে মেডিক্যাল টিম কাজ করবে, যাতে খামারি ও ক্রেতারা নির্বিঘেœ সেবা পান।’