গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করল জামায়াত

Printed Edition
গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করল জামায়াত
গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করল জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। রাজধানীর মিন্টু রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সাথে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়।

জানা যায়, দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করলে সংসদ সদস্য পদ হারাতে পারেন গাজী নজরুল ইসলাম। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি পদ শূন্য হবে

এদিকে বিশেষ সংবাদদাতা জানান, দলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কৃত হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো: আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, যেহেতু দলীয় মনোনয়নেই সংসদ সদস্য হয়েছেন। গতকাল নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গণমাধ্যমে এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানান।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কোনো দলের সংসদ সদস্যকে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কার করা হলে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না এবং ওই আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে কি না- এমন আইনি প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মতামত ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর সাধারণ নীতি তুলে ধরে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মূল পরিচয় ও আইনগত ভিত্তি তৈরি হয় দলগত কাঠামোর ওপর ভর করে। তাই দল যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে এবং তার মনোনয়ন প্রত্যাহার বা বাতিল করে, তবে তার আসন শূন্য হওয়াটাই স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়া। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় বহিষ্কার সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র বা চিঠি এখনো নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে পৌঁছেনি বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

তিনি উল্লেখ করেন, ইসির নিজস্ব কার্যপ্রণালী ও উপ-নির্বাচনের ঘোষণার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। অফিসিয়াল কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আইন, বিধিমালা ও সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, কোনো অনুমাননির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সঠিক নয়। লিখিত নথি ও সুনির্দিষ্ট আইন কোট করেই ইসি তার দাফতরিক অবস্থান স্পষ্ট করবে। নথিপত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যালোচনা শেষে আইন অনুযায়ী আসন শূন্য ঘোষণা এবং পরবর্তী উপ-নির্বাচন সংক্রান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হবে।