জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় চলমান আন্দোলনের মধ্যে ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। রোববার জাবি শাখা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুল্লাহ অন্তর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই মন্তব্যকে ‘সত্যের অপলাপ, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে ছাত্রদল জানায়, সাম্প্রতিক অনাকাক্সিক্ষত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলনে পাশে রয়েছে। তবে সংবেদনশীল একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ভিসির ওপর এমন ব্যক্তিগত আক্রমণ ও রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ানো অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
ভিসির অতীত ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সম্মুখসারির একজন সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। বিগত সময়ে ক্যাম্পাসের সব নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজপথে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে অপরাধী শনাক্ত ও বিচার নিশ্চিত করার বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে আড়াল করে ভিসিকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে ও অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার ভুলটিমেটাম দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হলে গত শুক্রবার (১৫ মে) রাত ৩টা থেকে তারা ভিসির বাসভবনের সামনে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরদিন শনিবার সকালে ভিসি আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্মের সংগঠক ও ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী ফারিয়া জামান নিকি ভিসিকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আখ্যা দেন। এর জবাবে ভিসি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ছিলাম। ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানেও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। নিয়মের বাইরে না গিয়ে সব অন্যায়কারীর বিচার করা হবে, একটি লোককেও ছাড় দেয়া হবে না।’
উল্লেখ্য, গত ১২ মে (মঙ্গলবার) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের পাশে এক বহিরাগত ব্যক্তি এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা চালায়। পথচারী শিক্ষার্থীদের বাধায় অভিযুক্ত পালিয়ে গেলে পরদিন আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।



