নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের প্রতি সরকার পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন।
গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও কার্যালয়ের মুখপাত্র আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালন করেন উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মো: সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) শাহাদত স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন সরকারের প্রথম ১৫০ দিনের কার্যক্রম, বিভিন্ন উদ্যোগ ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত পাঁচ মাসের সাফল্যকে সরকার পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে ভাগ করেছে। এগুলো হলো- জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন অর্জন; নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা; স্বল্প সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফলতা; জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার; এবং প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব।
তিনি বলেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত বিচার, আলোচিত কয়েকটি মামলার তদন্ত ও গ্রেফতার কার্যক্রমে অগ্রগতি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যৌথ বাহিনীর অভিযান সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার কৃষক, নারী, ক্রীড়াবিদ ও প্রবাসীদের জন্য পৃথক কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এ রূপ দেয়া হবে।
তিনি জানান, ১২ লাখ ক্ষুদ্র কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ, নিম্ন আয়ের ৫৫ লাখ পরিবারের জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ, ফ্রিল্যান্সারদের রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র, পথশিশু পুনর্বাসন প্রকল্প এবং শিক্ষকদের সম্মানী বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অনার্স পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনামূল্যে শিক্ষার ঘোষণা, স্মার্ট ক্লাসরুম, ফ্রি ওয়াই-ফাই, মিড-ডে মিল, নতুন পাঠ্যক্রম, স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাঋণ, স্টার্টআপ তহবিল, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য মেট্রোরেল ভাড়ায় ছাড় এবং জেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, উপজেলা হাসপাতাল উন্নয়ন, ইউনিয়নভিত্তিক স্বাস্থ্য ইউনিট, দুই হাজার মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ এবং সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ভিত্তিতে সমতা ও জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কূটনীতি পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক রাডার ও সীমান্ত নজরদারি সরঞ্জাম স্থাপন, জাপানের নারিতা রুটে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট আবার চালু, ব্যবসা নিবন্ধনের সময়সীমা ১৪ দিনে নামিয়ে আনা এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির অংশ হিসেবে পাসপোর্টে ‘এক্সেপ্ট ইসরাইল’ পুনর্বহালের বিষয়ও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো ‘ককাস অব আমেরিকা ইন দ্য ন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশ’ (ককাস অব আমেরিকা) গঠনের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী জনকল্যাণ, অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র এবং সেবামুখী নেতৃত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে মাহ্দী আমিন বলেন, ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করে মাত্র পাঁচ মাসে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা তখনই সম্ভব, যখন সরকারের পেছনে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও আস্থা থাকে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।



