বন্ড সুবিধার কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি করে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

অনন্যা সক্স অ্যান্ড ইনার্স

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ফেব্রিকস (কাপড়) বিদেশে রফতানি না করে খোলাবাজারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘অনন্যা সক্স অ্যান্ড ইনার্স লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে।

প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো: মুরাদ হোসেন সোহাগ ও তার প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে গঠন করা হয়েছে একাধিক তদন্ত কমিটি। তবে বারবারই তদন্তে যাওয়া কমিটির সদস্যদের পরিকল্পিতভাবে বাধারমুখে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ওই কমিটির দেয়া এক প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে ‘তদন্তকালে প্রতিষ্ঠানটি কমিটির সদস্যদের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে’। জানা গেছে, সোহাগ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী এমপিদের প্রভাব খাটিয়ে তার সব অনিয়ম-দুর্নীতির ফাইল ধাপাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে গেছেন। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকটি অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছেন।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট সূত্রমতে, প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত তিন হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন পণ্য শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধায় আমদানি করেছে। নিয়ম অনুযায়ী এই কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পোশাক বিদেশে রফতানি করার কথা থাকলেও তারা মাত্র ৭৮৬ মেট্রিক টন পণ্য রফতানি করেছে। বাকি বিপুল পরিমাণ পণ্য বন্ডেড ওয়্যারহাউসে সংরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও সরেজমিনে সেখানে কোনো পণ্য পায়নি কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তাদের মতে, এসব পণ্য চড়া দামে খোলাবাজারে বিক্রি করে শত শত কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয়া হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক গোয়েন্দা, সিআইসি এবং কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের একটি দল একাধিকবার তেজগাঁওয়ের ওয়্যারহাউসে তদন্তে গেলেও তাদের সহযোগিতা করেনি কর্তৃপক্ষ। উল্টো শ্রমিকদের দিয়ে বিক্ষোভ করিয়ে তাদের সেখান থেকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। এমনকি কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা ‘লে-অফ’ নোটিশও প্রচার করা হয়েছে। তথ্যমতে এর আগেও এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩০ এবং ৮.৬৪ কোটি টাকার দু’টি বড় শুল্ক ফাঁকির মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়িক পার্টনারদের সাথে দেনা পাওনার একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, অনন্যা সক্স অ্যান্ড ইনার্স লিমিটেডের অনিয়মের বিরুদ্ধে একাধিকবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা প্রতিষ্ঠানে তদন্ত করতে গিয়ে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র পায়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত রিপোর্টও জমা দেয়া হয়েছে।