বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী বয়স ৯৯ বছর, তবে স্থানীয়দের মতে ১২০ ছুঁইছুঁই। দীর্ঘ জীবনের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রবীণ নারীর নাম সোনাভানু। তবে এই দীর্ঘায়ু তার জন্য সুখের কোনো বার্তা আনেনি। বরং অনাদর, অবহেলা আর চরম দারিদ্র্যের সাথে প্রতিদিন সংগ্রাম করেই বেঁচে আছেন তিনি।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের কেল্লা গ্রামের মৃত কাজেম ফকিরের স্ত্রী সোনাভানু। বহু বছর আগে স্বামী হারিয়েছেন। এক ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে মারা গেছেন বহু আগে, অপর মেয়ের কোনো খোঁজ নেই। বেঁচে থাকা একমাত্র ছেলেও বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং চরম দরিদ্র, যিনি মায়ের দায়িত্ব নিতে অপারগ। ফলে স্বজন থেকেও তিনি নিঃসঙ্গ। ভিটেমাটিহীন সোনাভানুর শেষ আশ্রয় হয়েছে ভাতিজা আবদুর রহমানের বাড়ির উঠানের এক কোণে।
সাত-আট বছর আগে তার অসহায় অবস্থা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদা তুলে একটি ছোট্ট টিনের ঘর বানিয়ে দেন। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে সেই ঘরটিও। বৃষ্টি হলেই চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় তার একমাত্র থাকার জায়গাটি। বার্ধক্যের কারণে এখন আর চলাফেরা করার ক্ষমতা নেই সোনাভানুর। চালচলনে অক্ষম হয়ে পড়ায় প্রতিবেশীদের দেয়া খাবার বা সাহায্যেই কোনো মতে দিন কাটে তার। অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সামর্থ্যও থাকে না।
প্রতিবেশী ইসরাফিল হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই সোনাভানু বৃদ্ধাকে দেখে আসছি। এলাকায় তার সমবয়সী কেউ আর বেঁচে নেই। এমনকি তার নাতি-নাতনীদের অনেকে মারা গেছেন। ছেলেও বৃদ্ধ হওয়ায় খোঁজ নেন না। আমরা প্রতিবেশীরা যতটুকু পারি সাধ্যমতো তার পাশে থাকার চেষ্টা করি। সোনাভানু বলেন, আমার অনেক বয়স হয়েছে, দেখার কেউ নেই। বয়স্ক ভাতার সামান্য টাকায় ওষুধ কেনাই দায়। প্রতিবেশীরা খাবার দিলে খাই, না দিলে না খেয়েই থাকতে হয়।
এ সময় তিনি জীবনধারণ ও চিকিৎসার জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তার আকুতি জানান। এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, বৃদ্ধার বিষয়ে তথ্যটি জানা ছিল না। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সম্ভাব্য সব রকম সহায়তা দেয়া হবে।



