কান উৎসব ২০২৬ : দর্শকদের জন্য স্ক্রিনিং ও টিকিটের নিয়মাবলি

Printed Edition
কান উৎসব ২০২৬ : দর্শকদের জন্য স্ক্রিনিং ও টিকিটের নিয়মাবলি
কান উৎসব ২০২৬ : দর্শকদের জন্য স্ক্রিনিং ও টিকিটের নিয়মাবলি

সাকিবুল হাসান

আগামী ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ফ্রান্সের উপকূলীয় শহর কানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৯তম আসর। এবারের উৎসবে পালে দ্য ফ্যাস্টিভালসহ ১০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টি করে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবে অংশ নিতে যাওয়া প্রায় ৪০ হাজার দেশী-বিদেশী দর্শকের সুবিধার্থে স্ক্রিনিং ও টিকিট ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উৎসবের অফিশিয়াল সিলেকশনে থাকা চলচ্চিত্রগুলো দেখার জন্য দর্শকদের অবশ্যই নির্ধারিত ক্যাটাগরির অ্যাক্রেডিটেশন বা অনুমতিপত্র থাকতে হবে। কেবল এই অনুমতিপত্র বা ব্যাজ থাকলেই অনলাইন টিকিট অফিসে প্রবেশ করে আসন সংরক্ষণের আবেদন করা যাবে। বুকিং প্রক্রিয়াটি শুরু হয় প্রতিটি প্রদর্শনীর চার দিন আগে থেকে। প্রতিদিন সকাল ৭টা বা ৮টায় (দর্শকের ক্যাটাগরি অনুযায়ী) নতুন সিট বুকিংয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এই প্রক্রিয়ায় লটারি বা ‘র‌্যান্ডম ড্র’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। যারা নির্দিষ্ট সময়ের এক মিনিট আগে লগইন করবেন, তাদের সবাইকেই একটি ডিজিটাল ওয়েটিং রুমে রাখা হবে এবং লটারির মাধ্যমে তারা পর্যায়ক্রমে বুকিং সাইটে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। পেশাদার চলচ্চিত্র কর্মী, প্রযোজক বা পরিবেশকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কোটা আগে থেকে সংরক্ষিত থাকলেও প্রদর্শনীর ৪৮ ঘণ্টা বা ২৪ ঘণ্টা আগে অবিক্রীত সব টিকিট সাধারণ চলচ্চিত্রপ্রেমীসহ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

টিকিট পাওয়ার পর তা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অনলাইন অ্যাকাউন্টে দেখা যাবে। প্রদর্শনীর আগের দিন সন্ধ্যায় অথবা একই দিনের শো হলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি ই-টিকিট ও কিউআর কোড তৈরি হবে। এই টিকিটটি স্মার্টফোনে অথবা প্রিন্ট করে প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশদ্বারে দেখাতে হবে। তবে আসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম; সাধারণ প্রদর্শনীর অন্তত ১০ মিনিট আগে এবং গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়ারের জমকালো গালা স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে ২৫ মিনিট আগে অবশ্যই প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে পৌঁছালে আসনটি অন্য কারো জন্য বরাদ্দ দেয়া হতে পারে।

কান উৎসবের টিকিট ব্যবস্থাপনায় এবার কঠোর দণ্ডবিধির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো কারণে টিকিট পাওয়ার পর যদি কোনো দর্শক প্রদর্শনীতে যেতে না পারেন, তবে তা অবশ্যই প্রদর্শনীর অন্তত এক ঘণ্টা আগে অনলাইনে বাতিল করতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি পরপর দুবার টিকিট বুক করে উপস্থিত না হন, তবে তার অনলাইন অ্যাকাউন্টটি পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হয়ে যাবে, যার ফলে ওই সময়ে তিনি আর নতুন কোনো সিনেমার টিকিট কাটতে পারবেন না।

অনলাইনে টিকিট না পেয়েও যারা নিরাশ হতে চান না, তাদের জন্য প্রতিটি সিনেমা হলের সামনে ‘লাস্ট মিনিট অ্যাক্সেস’ বা শেষ মুহূর্তের বিশেষ লাইনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি হলের ভেতরে কোনো আসন খালি থাকে, তবে এই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকরা কেবল তাদের ব্যাজ দেখিয়েই সিনেমা দেখার সুযোগ পেতে পারেন। বিশেষ করে ‘সিনেয়াম’ প্রেক্ষাগৃহে এবার আসন সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য সিনেমা দেখার সম্ভাবনা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া প্রতিযোগিতার সিনেমাগুলো মূল প্রিমিয়ারের চার দিন পর পর্যন্ত পুনঃপ্রদর্শিত হয় এবং সাধারণত ভোর সাড়ে ৮টা বা রাত ১০টার শোগুলোতে ভিড় কিছুটা কম থাকে। সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ স্ক্রিনিং গাইড ও সময়সূচি ৮ মে থেকে পাওয়া যাচ্ছে।