ওয়াশ খাতে বৈষম্য দূর করে অগ্রাধিকার দেয়ার দাবি

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটার এইড

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য দূর করে আগামী বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ওয়াশ খাত-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। তারা বলছেন, নিরাপদ সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে হলে ওয়াশ খাতে বরাদ্দের নিম্নমুখী প্রবণতা রোধ করে সমতাভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস’ আয়োজিত প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের হেড অব পলিসি, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড ক্যাম্পেইন ফাইয়াজ উদ্দিন আহমদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিপিআরসির প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ, অ্যান্ড ওয়াটার পোভার্টির প্রতিনিধি মো: ফজলুল হক, স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অলের প্রতিনিধি মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের ওয়াশ খাত বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতাধীন সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার সম্প্রসারণ ঘটলেও তা এখনো কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এডিপিতে ওয়াশ বরাদ্দ ছিল ৪৯ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন টাকা, যা বেড়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৮৭ দশমিক ২৮ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছায়। তবে এরপর থেকেই বরাদ্দে নিম্নমুখী ধারা শুরু হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় ১৪৯ দশমিক ৮১ বিলিয়ন টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরো কমে ১০৯ দশমিক ০১ বিলিয়ন টাকায় নেমে আসে।

মূল বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ওয়াশ খাতে এডিপি বরাদ্দের এই নিম্নমুখী প্রবণতা খুবই দুর্বল পলিসি সিগন্যাল দিচ্ছে। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে নিরাপদ সুপেয় পানি ও নিরাপদ স্যানিটেশন শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। এখনো আমরা সেই লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে আছি।

তিনি বলেন, ওয়াশ খাতে বরাদ্দ বণ্টনে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। বিশেষ করে আরবান-রুরাল বৈষম্য, শহরের অভ্যন্তরীণ বৈষম্য এবং দুর্গম অঞ্চলের অবহেলা স্পষ্ট। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও গাজীপুরে বরাদ্দের উচ্চ হার থাকলেও চট্টগ্রামের মতো বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তুলনামূলক কম বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। চরাঞ্চলও এখনো অনেকটাই উপেক্ষিত।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহারের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। ডিপিএইচই, সিটি করপোরেশন, নগর ও গ্রামীণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী বাজেটের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- এডিপির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ওয়াশ বাজেট বৃদ্ধি, গ্রাম ও শহরে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা সম্প্রসারণ, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ, গভীর নলকূপ স্থাপন, বস্তিতে নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৃথক শৌচাগার ও ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যবিধি সুবিধা চালুর সুপারিশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড বা প্রস্তাবিত হেলথ কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা ‘ওয়াশ ভাতা’ দেয়া হলে তা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এতে অতি দরিদ্র পরিবারগুলো নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন সেবা গ্রহণে সক্ষমতা অর্জন করবে।