নিজস্ব প্রতিবেদক
এক দিকে বিজিবি-বিএসএফ ডিজি পর্যায়ে বৈঠক, অন্য দিকে পুশইন চেষ্টা। সীমান্ত এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দিল্লিতে টানা চার দিনব্যাপী দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন শেষ হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিজিবি সদর দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুই দেশের (বিজিবি- বিএসএফ) যৌথ বিবৃতি দেয়া হয়।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বিজিবি-বিএসএফ। ১১টি বিষয় নিয়ে দুই দেশের আলোচনা হয়। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সব বিষয়ে সম্মতি জানালেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডিপ্লোম্যাটিক উত্তর দেয়। পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।
সম্মেলনে সীমান্তে হত্যা ও সহিংসতা প্রতিরোধ, পুশইন, চোরাচালান, সীমান্ত বেড়াসহ যৌথ টহল বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে সীমান্ত সহযোগিতা জোরদারসহ আরো বেশ কিছু বিষয়ে একমত হয়েছে বিজিবি-বিএসএফ। যৌথ বিবৃতিতে বিজিবি ও বিএসএফ এই আলোচনাকে ‘আন্তরিক, ইতিবাচক এবং দূরদর্শী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
বিজিবির মহাপরিচালক সাম্প্রতিক পুশইন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্মেলনে জানান, এটি দ্বিপক্ষীয় নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থী। সীমান্তে এসব ‘পুশইন’ হওয়া ব্যক্তিদের দুর্ভোগ অত্যন্ত ব্যাপক। তাদের অনেকেই চরম দুর্দশায় রয়েছেন; কেউ কেউ ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত এবং প্রবীণ ব্যক্তিও রয়েছে। পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা যদি বাংলাদেশী নাগরিক হয়, তাহলেও প্রচলিত আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন হবে। কিন্তু বিএসএফ এগুলো মানছেন না, অবিলম্বে এই কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানায় বিজিবি।
তবে বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের সাথে সব অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাইকরণ বিষয় দ্রুত সম্পন্ন করার এবং তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সীমান্তে হত্যা ও সহিংসতা প্রতিরোধ: সম্মেলনে বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশী নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উভয় পক্ষ সম্মতি দিয়ে জানায়, এসব বিষয় আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে, প্রচলিত আইন অনুসরণ করে এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমাধান করা যেতে পারে। এ ছাড়াও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্মত হয়। যাতে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়।
সম্মেলনে সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা বিষয়, সীমান্ত বেড়া ও অবকাঠামো, জাল মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান, পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম, সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত সহযোগিতা, সীমান্তবর্তী নদীর পানি ব্যবহার ও তীর সংরক্ষণ, অননুমোদিত নির্মাণ ও সীমান্ত অবকাঠামো সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, গণমাধ্যম প্রতিবেদন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেন।



